বয়সের কাঁটা ৪১ পেরিয়েছে গত ফেব্রুয়ারিতেই। তবে ফুটবল মাঠে তার দৌড় কিংবা গোলের ক্ষুধা দেখলে বোঝার উপায় নেই যে ক্যারিয়ারের গোধূলি লগ্নে অবস্থান করছেন তিনি। পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো যেন বয়সকে নিছক একটি সংখ্যায় পরিণত করেছেন। ক্লাব ফুটবল থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক মঞ্চ, সবখানেই সমান তালে লড়ে যাচ্ছেন সিআরসেভেন।
রোনালদোর এই অতিমানবীয় ফিটনেস আর দীর্ঘ ক্যারিয়ার ফুটবল বিশ্বের অনেকের কাছেই এক বড় বিস্ময়। তবে এই বয়সে এসে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়ানোর কথা স্বপ্নেও ভাবতে পারেন না কিলিয়ান এমবাপে। ফরাসি এই তারকা ফরোয়ার্ডের মতে, রোনালদোর মতো ৪১ বছর বয়স পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে খেলা তার পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
গত কয়েক বছর ধরে ফ্রান্স জাতীয় দলের আক্রমণভাগের অঘোষিত নেতা এমবাপে। দলের মূল দায়িত্বটা মূলত তার কাঁধেই বর্তেছে। টানা তিনটি বিশ্বকাপে ফরাসি শিবিরের সবচেয়ে বড় তারকা হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন তিনি। বর্তমানে তার বয়স মাত্র ২৭। ফর্ম আর ফিটনেস ঠিক থাকলে রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকার সামনে অন্তত আরও দুটি বিশ্বকাপ খেলার দারুণ সুযোগ রয়েছে। তবে এরপর কী হবে? রোনালদোর মতো চল্লিশ পেরোনোর পরও কি তিনি লেস ব্লুজদের হয়ে মাঠে নামবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে বাস্তবতা মেনেই উত্তর দিয়েছেন ফরাসি অধিনায়ক।
সম্প্রতি জার্মান সংবাদমাধ্যম বিল্ডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা। সেখানে ৪১ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলার সম্ভাবনাকে সরাসরি উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। ফ্রান্সের বেঞ্চের গভীরতা এবং নতুন প্রতিভাদের উঠে আসার দিকে ইঙ্গিত করে এমবাপে বলেন, “সত্যি কথা বলতে, আমি যে দেশের হয়ে খেলি, সেখানকার পরিস্থিতি বিবেচনা করলে এটা আসলে কোনোভাবেই সম্ভব নয়… ফ্রান্স আমাকে কখনোই ৪১ বছর বয়সে জাতীয় দলের হয়ে খেলতে দেবে না।”
এ সময় রোনালদোর প্রতি নিজের মুগ্ধতার কথাও লুকাননি এমবাপে। পর্তুগিজ কিংবদন্তির অদম্য মানসিকতার প্রশংসায় তিনি বলেন,“ ক্রিশ্চিয়ানো এটা প্রমাণ করেছেন যে, শারীরিকভাবে এবং মানসিকভাবে শতভাগ ফিট থাকলে দীর্ঘদিন ধরে ফুটবলের এই শীর্ষ পর্যায়ে খেলে যাওয়া যায়। কিন্তু আমি যদি আমার নিজের কথা ভাবি, তবে আমার ক্ষেত্রে এমনটা হওয়ার কোনো সম্ভাবনা আমি দেখি না।


