রূপসার বিহারি হাসান হত্যাকান্ডের ২৪ ঘন্টার মধ্যে মুল ঘাতকসহ তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনার পর থেকে শুক্রবার রাত ৮টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে শুক্রবার সকালে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হাসানের ছেলে বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন, খায়রুল সর্দার, রুবেল শেখ ও রাশেদ ওরফে অক্ষে। খায়রুল ও রুবেলকে শুক্রবার সকালে এবেং অক্ষেকে রাত ৮টার দিকে জাবুসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও রূপসা থানার এসআই নিউটন রায় বলেন, দুপুরের পর ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। আসরের নামাজের পর জানাযা শেষে স্থানীয় একটি কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, গত কয়েকদিন আগে হাসানের এক ছেলের বিয়ে হয়। শশুর বাড়ি থেকে কয়েকজন আত্মীয় ভ্যানযোগে তাদের বাড়িতে বেড়াতে আসে। বাড়ি থেকে ভ্যানটি চুরি হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাবুসার চৌরাস্তা মোড়ে অবস্থানকালে দুর্বৃত্তরা হাসানের ওপর হামলা চালায়। যেটি চৌরাস্তা মোড়ে উপস্থিত থাকা অনেকেই দেখেছে।
হামলাকারীরা দেশি অস্ত্র দিয়ে তার শরীরের বিভিন্নস্থানে এবং মাথায় কুপিয়ে জখম করে। স্থানীয়রা জড় হতে থাকলে দুর্বৃত্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
তিনি আরও বলেন, হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে উপজেলার বিভিন্নস্থানে অভিযান চালানো হয়। শুক্রবার সকালে দু;জনকে এবং রাতে হত্যার সাথে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে খায়রুল সর্দার ও রুবেল শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ন তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে তা প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছেনা। মামলাটি তদন্তনাধীন রয়েছে।
রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রাজ্জাক মীর বলেন, হত্যা মামলার প্রধান আসামি রাশেদ ওরফে অক্ষে ভারতে পালিয়ে পরিকল্পনা করেছিল। সোর্সের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে তাকে রাতেই জাবুসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।


