ভূমি সেবায় দুর্নীতি, হয়রানি ও মামলা জট কমাতে জবাবদিহি নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু।
তিনি বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও আইন মন্ত্রণালয়কে সমন্বয়ের মাধ্যমে এক ছাতার নিচে এনে সেবা ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সোমবার (১৮ মে) দুপুরে সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘ভূমিসেবা মেলা-২০২৬’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন ভূমিমন্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ভূমি সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, আগামী ১৯ মে সকাল ১০টায় সারা দেশে একযোগে ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই মেলার মাধ্যমে জনগণকে ভূমিসেবা সম্পর্কে সচেতন করা এবং সেবা সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অতীতে ভূমি ব্যবস্থাপনা নিয়ে মানুষের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা ছিল। বর্তমান সরকার সেই অবস্থা বদলাতে চায়।
তিনি বলেন, ভূমি নিয়ে গ্রামের মানুষ সবচেয়ে বেশি হয়রানির শিকার হন। মামলা-মোকদ্দমা, দালালচক্র ও দীর্ঘসূত্রতায় অনেকে বাপ-দাদার সম্পত্তির অধিকার থেকেও বঞ্চিত হন। আমরা চাই জনগণ যেন দ্রুত ও স্বচ্ছ সেবা পায়।
কৃষিজমি সুরক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষিজমি অন্য কাজে ব্যবহার বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় কৃষিজমি রক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা ভূমি অফিসে দুর্নীতি ও হয়রানির অভিযোগ তুললে মন্ত্রী বলেন, এসিল্যান্ড অফিসসহ বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়মের অভিযোগ সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। যেখানে অভিযোগ পাওয়া যাবে, সেখানে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে চাই।
প্রবাসীদের জমি ও ফ্ল্যাট নিবন্ধনে পাসপোর্ট ব্যবহারের সুযোগ সীমিত হওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ভূমিমন্ত্রী বলেন, বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের স্বার্থে নিবন্ধনপ্রক্রিয়া সহজ করতে সরকার কাজ করবে। জনগণের জন্য যা ভালো, সরকার সে উদ্যোগ নেবে বলেও জানান তিনি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগের সরকারের সময় ভূমি মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও অনুসন্ধান চলছে। ইনকোয়ারি করছি, বিষয়টি তদন্তাধীন আছে।
ভূমিমন্ত্রী আরও বলেন, ভূমি ব্যবস্থাপনায় ঐতিহাসিকভাবে বৈষম্য ও দখলদারির সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। সেই ধারা থেকে বেরিয়ে আধুনিক ও সুরক্ষিত ভূমি মালিকানা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মডেল পর্যালোচনা করছে।
ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন মন্ত্রণালয়ের সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে জিও-লোকেশনভিত্তিক উপস্থিতি মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর কথা জানান। তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা শুধু ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে অফিসে এসে চলে যেতে পারবেন না; নির্ধারিত কর্মস্থলে অবস্থান নিশ্চিত করতে নতুন প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয় নিয়ে মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে একটা নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। সেটি অস্বীকারের সুযোগ নেই। সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মন্ত্রণালয় এই ধারণা পরিবর্তনে কাজ করছে।
তিনি বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত ও হয়রানিমুক্ত সেবার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করাই বর্তমান উদ্যোগগুলোর মূল লক্ষ্য। এ জন্য বিভিন্ন ডিজিটাল ও স্বয়ংক্রিয় সেবা চালু করা হলেও এখনো অনেক মানুষ এসব সম্পর্কে জানেন না। জনগণকে সচেতন করতেই ভূমিসেবা মেলার আয়োজন করা হয়েছে।


