মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা চরম অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে। তাই এখনই নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের উদ্যোগ গ্রহণ করে একটি আত্মনির্ভরশীল জ্বালানি ব্যবস্থা ও অবকাটামো গঠনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করাতে হবে। গতকাল শনিবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম-ফেড সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি পরিস্থিতির চিত্র ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের সম্ভাবনায় ১৩ দফা তুলে ধরা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফেড খুলনার সদস্য গৌরাঙ্গ নন্দী।
সংবাদ সম্মেলনে উলেখ করা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে দেশে এলএনজি সরবরাহ ৬৩ শতাংশ কমেছে। ফলে পোশাক শিল্পের উৎপাদন ৪০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে টান পড়েছে। গ্যাস ও তেলের অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার ৫০ ভাগ অব্যবহৃত থাকছে। বিদ্যুৎ ও তেল সংকটের প্রভাব পড়েছি কৃষি খাতেও ফলে খাদ্য নিরাপত্তাও ব্যাহত হচ্ছে। তাই জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে ‘সৌর-বিপ্লব’ ঘটানো এখন সময়ের দাবি। দেশের ৪ কোটি পরিবারের ছাদে সৌর প্যানেল বসালে ১৬ হাজার ৩৬১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব, যা বছরে প্রায় ৪৮ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। তাই সৗর সরঞ্জামের ওপর সকল শুল্ক প্রত্যাহার, ৪১ শতাংশ পরিবারের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনে ভর্তুকি প্রদান, এবং জ্বালানি বাজেটের ৪০ শতাংশ নবায়নযোগ্য খাতে বরাদ্দ করারসহ সংকট উত্তরণে ১৩ দফা সুপারিশ পেশ করে সংগঠনটি।
