বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রতিকূলতার মধ্যে বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের জন্য মূল্যস্ফীতির চাপ সামাল দিতে সরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়িয়ে মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়েছে। চাহিদাজনিত মূল্যস্ফীতির চাপ প্রশমন, বিনিময় হারের চাপ নিয়ন্ত্রণ, সরকারের কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় অর্থের সরবরাহ নিশ্চিত করা ছাড়াও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী খাতে ঋণ সরবরাহ নিশ্চিতে মুদ্রানীতিতে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার রোববার (১৫ জানুয়ারি) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এই মুদ্রানীতি ঘোষণা করে বলেন, ‘আমরা একটি চ্যালেঞ্জিং সময় পার করছি।’
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, ২০২৩ সালের জানুয়ারি-জুন সময়ের জন্য ঘোষিত মুদ্রানীতিতে সরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৩৭.৭ শতাংশ, যেখানে গত বছরে জুনে ঘোষিত মুদ্রানীতিতে তা ধরা হয়েছিল ৩৬ শতাংশ। আর বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১৪ দশমিক ১ শতাংশ। গত জুনেও একই লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। সবমিলিয়ে মোট অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ। যা গত জুনে ঘোষিত মুদ্রানীতিতে ছিল ১৮ দশমিক ২ শতাংশ। এছাড়া মুদ্রানীতিতে ব্যাপক মুদ্রা (এম২) প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১১ দশমিক ৫ শতাংশ। যেখানে গত জুনের মুদ্রানীতিতে ধরা হয়েছিল ১২.১ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ মাসে সরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছিল ৩৩ দশমিক ৩ শতাংশ, এরমধ্যে অর্জন হয়েছে ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ। আর বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ১৩ দশমিক ৬ শতাংশের মধ্যে অর্জিত হয়েছে ১২ দশমিক ৮ শতাংশ। সবমিলিয়ে মোট অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছিল ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ। যারমধ্যে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৫ দশমিক ১ শতাংশ। এছাড়া মুদ্রানীতিতে ব্যাপক মুদ্রা (এম২) প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছিল ১০ শতাংশ, সে জায়গায় অর্জিত হয়েছে ৮ দশমিক ৪ শতাংশ।
২০২২-২৩ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে সরকার মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৬ শতাংশে ধরেই মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ৭ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ঠিক করেছে। তবে সর্বশেষ গত ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। এমতাবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে, নতুন মুদ্রানীতি সরকারের জিডিপি প্রবৃদ্ধির ওই লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত