গ্রীষ্মের তাপদহে ঘর্মাক্ত প্রচার-প্রচারণা শেষ, রাত পোহালেই অনুষ্ঠিত হবে খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন (কেসিসি)। আগামীকাল সোমবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ইভিএমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এ নির্বাচন বর্জন করলেও নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতায় কোনো কমতি রাখেনি নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে মধ্যরাত থেকেই যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের পাশাপাশি মহানগরী এলাকায় বহিরাগতদের না থাকার ঘোষণাও দিয়েছে প্রশাসন।
সূত্রমতে, নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে স্থাপন করা প্রায় দুই হাজার ক্যামেরার মাধ্যমে ঢাকার নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে সরাসরি মনিটরিং করবে সিইসিসহ অন্য কমিশনাররা। সিটি নির্বাচনে এ বছর ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৫২৮ জন ভোটার। নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডের ২৮৯টি ভোট কেন্দ্রে তার ভোট প্রদান করবেন। ভোটগ্রহণ কার্যক্রম সহজ করতে এসব কেন্দ্রে এক হাজার ৭৩২টি বুথ স্থাপন করা হচ্ছে। ভোট গ্রহণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ২৮৯জন প্রিজাইডিং অফিসার, এক হাজার ৭৩২ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ৩ হাজার ৪৬৪ জন পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন।
১১ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন : নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১১ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে নগরীর বিভিন্ন স্থানে বিজিবি সদস্যদের টহল দিতে দেখা যায়। সাধারণ ভোটকেন্দ্রের নিরপত্তায় একজন অস্ত্রসহ এসআই/এএসআই একজন, তিনজন কনস্টেবল, অস্ত্রসহ একজন আনসার (পিসি), অস্ত্রসহ একজন (এপিসি), ১০ জন আনসার সদস্যসহ মোট ১৬জন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী লোক নিয়োগ থাকবে। পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটালিয়ান আনসারের সমন্বয়ে প্রতি সাধারণ ওয়ার্ডে একটি করে মোবাইল ফোর্স, তিনটি সাধারণ ওয়ার্ডে একটি করে স্ট্রাইকিং ফোর্স, প্রতি থানায় একটি করে রিজার্ভ স্ট্রাইকিং ফোর্স নিয়োজিত থাকবে। র্যাবের টিম ও বিজিবি নিয়োজিত থাকবে। এছাড়াও কেন্দ্র অনুযায়ী থাকবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের ভ্রাম্যমাণ আদালত টিম।
জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফীন জানান, খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নিরাপত্তার জন্য ১১ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতি প্লাটুনে ২০জন করে বিজিবি সদস্য রয়েছেন। শনিবার থেকে মঙ্গলবার এ চারদিন তারা নির্বাচনের মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন। বিজিবি’র টহল টিমের সঙ্গে ১১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকছেন।
কেসিসি’র রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ আলাউদ্দীন বলেন, সোমবার খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কেসিসি নির্বাচনে এবার ভোট কেন্দ্র ২৮৯টি। প্রতিটি ভোট কেন্দ্রের সামনে একটি করে ক্লাজ সার্কিট ক্যামেরা রয়েছে। এছাড়া এক হাজার ৭৩২টি ভোট কক্ষের প্রতিটিতে একটি করে ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। সোমবার ভোটগ্রহণ শেষে রাতে বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স থেকে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কেসিসি নির্বাচনে মেয়র পদে ৫ জন প্রার্থী এবং ৩১টি সাধারণ ওয়ার্ডে ১৩৬ জন ও ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৩৯ জন কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন। যার মধ্যে নগরীর ১৩ ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে ২ জন কাউন্সির বিনাপ্রতিদ্ব›িদ্বতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এবারের নির্বাচনে নগরের ৩১টি ওয়ার্ডে ২৮৯টি ভোটকেন্দ্রে ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৫২৯ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে নারী ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৬৬ হাজার ৬৯৬ জন ও পুরুষ ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৬৮ হাজার ৮৩৩ জন।
এদিকে, তফসিল ঘোষণার পর থেকেই আ’লীগের একক প্রার্থী হিসেবে তালুকদার আব্দুল খালেক প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করেন। শক্ত প্রতিদ্ব›দ্বী না হলেও তার সাথে লড়ছেন জাতীয় পার্টির এস এম শফিকুল ইসলাম মধু, ইসলামী আন্দোলনের মোঃ আব্দুল আউয়াল, স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম শফিকুর রহমান (মুশফিক) ও জাকের পার্টির এস এম সাব্বির হোসেন। মেয়র পদে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই না হলেও জমে উঠবে কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রতিদ্ব›িদ্বতা। ২৪ ও ১৩নং ওয়ার্ডে দু’জন কাউন্সিল বিনাপ্রতিদ্ব›িদ্বতায় নির্বাচিত হলেও অন্য সবগুলো ওয়ার্ডে লড়াই হবে প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে। এবারের নির্বাচনে সাধারণ ৩১টি ও সংরক্ষিত ১০টি নিলে মোট ৪১টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন ১৭৫ জন প্রার্থী।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ মাসুদুর রহমান ভূঞা বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী গেল মধ্যরাতে প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত