প্রতিনিধি, শরণখোলা
স্মরণকালের ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে শরণখোলা উপজেলার রাজাপুর বাজারে ২২টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে ওই বাজারটিতে আগুন লাগে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুন সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। এঘটনায় দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্থরা জানান।
বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাডঃ আমিরুল আলম মিলন, উপজেলা চেয়ারম্যান রায়হান উদ্দিন শান্ত, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নুর ই আলম সিদ্দিকী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্মপাদক আসাদুজ্জামান মিলন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনকালে এমপি মিলন ব্যক্তিগত তহবিল থেকে তাৎক্ষনিকভাবে ৫০ হাজার টাকা সহায়তা করেন। এসময় তিনি উপজেলা পরিষদকে জরুরীভাবে সভা করে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সহায়তা করার পরামর্শ দেন।
শরণখোলা ফায়ার সার্ভিসের সাব অফিসার মোঃ শামসুর রহমান বলেন, তারা মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলার দুইটি ইউনিট বাগেরহাটের উপ-সহকারি পরিচালকের নেতৃত্বে আগুন নিয়ন্ত্রন করেতে সক্ষম হন। যার কারনে আরো শতাধিক দোকান রক্ষা পেয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকরা জানান, একটি ইলেকট্রনিক্সের দোকানের বৈদ্যুতিক সট সার্কিট থেকে আগুনের সুত্রপাত হয়। বাজারের অধিকাংশ দোকানিরা বাড়িতে ছিল। আগুনের খবর পেয়ে তারা ছুটে এসে দেখেন সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
ঔষধের দোকান দোকান মালিক বাদল মন্ডল জানান, তিনি গতকাল ও দোকানে দুই লাখ টাকার ঔষধ তুলেছিলেন। কিন্তু তার সব শেষ হয়ে গেছে। লন্ড্রি দোকানি গোবিন্দ দাস বলেন, তার সারাজীবনের স য় দোকানে রাখা তিন লাখ টাকা পুড়ে ছাই। দোকানি পুলিন বৈদ্য জানান, তার প্রায় কোটি টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
রাজাপুর বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ নজরুল ইসলাম কবির জানান, আগুনে ২২টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। দোকানগুলির কোন মালামাল কেউ রক্ষা করতে পারেনি। সরকারি সহায়তা না পেলে এরা আর কোনদিন উঠে দাড়াতে পারবে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নুর ই আলম সিদ্দিকী বলেন, উপজেলা পরিষদ থেকে ইতিমধ্যে পাঁচ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পরবর্তীতে সম্ভাব্য সহায়তা করা হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত