আসাদুজ্জামান মিলন , শরণখোলা থেকে
শরণখোলায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রোগীর শরীরে ভুলক্রমে মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন পুষের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। সহকারি সিভিল সার্জন হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত টিম রবিবার শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঐ রোগীর আত্মীয় স্বজন, কর্তব্যরত নার্স, ডাক্তারসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলেন। তদন্ত কার্যের এক পর্যায়ে অভিযুক্ত নার্স শামিমা আক্তার ঘটনার জন্য ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করলে অভিযোগ কারী জাকারিয়া হাওলাদার তার অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেন। এসময় কমিটির অন্য দু’সদস্য সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডাঃ মেহেদী হাসান ও শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. এস এম ফয়সাল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। ।
তদন্ত কাজ শুরু হওয়ার আগে শামিমা আক্তার শোকজের লিখিত জবাব দিয়েছেন। জবাবে সে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, মঙ্গল ও বুধবার হাসপাতালে সাধারন রোগীদের পাশাপাশি ডায়রিয়া রোগীদের উপচে পড়া ভীড় সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছিলাম । রোজা রেখে সারা রাত ডিউটি করে খুব সকালে ষ্টক থেকে স্যালাইন টি পুষ করি। রোগীর স্বজনদের তাড়াহুড়ার কারনে মেয়াদের দিকটি খেয়াল করা হয়নি । যা একজন নার্সের জন্য অনভিপ্রেত। ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজে আরো বেশী সচেতন থাকার অঙ্গিকার ব্যাক্ত করেন সে।
তদন্ত কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে টিমের সদস্য ও হাসপাতালের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. এস এম ফয়সাল আহমেদ জানান, রোগী আবু হানিফ হাওলাদার ইতোমধ্যে সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। রোগীর পুত্র ও অভিযোগকারী তার অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন । এছাড়া নার্স শামিমা আক্তার নিশর্ত ক্ষমা চেয়ে ভবিষ্যতে এ ব্যাপারে আরো বেশী সচেতন থাকার ব্যাপারে লিখিত মুচলেকা দিয়েছেন।
বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডাঃ জালাল উদ্দিন বলেন, ঘটনা তদন্তের জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে । আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে । তদন্ত রিপোর্ট ও তদন্ত টিমের সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া হাসপাতালের স্টোরে থাকা সকল ঔধুধ ও স্যালাইনের মেয়াদ পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য স্টোর ইনচার্জ কে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
৬ এপ্রিল সকালে কর্তব্যরত নার্স শামিমা আক্তার ভুলক্রমে আবু হানিফ হাওলাদার (৬০) নামে এক রোগীর শরীরে দুই মাস আগে মেয়াদ শেষ হওয়া একটি স্যালাইন পুষ করে দেন । এতে রোগীর শরীরে জ্বালা-যন্ত্রনা শুরু হয়ে বলে স্বজনরা অভিযোগ করেন।
এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৭ এপ্রিল কর্তব্যরত নার্স শামীমা আক্তার কে শোকজ করে তিন দিনের মধ্যে কারন দর্শাতে বলা হয়। এছাড়া জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে তিন কর্ম দিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট নির্দেশ দেয়া হয়।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত