
যশোরের মণিরামপুরে আলোচিত বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির নেতা রানা প্রতাপ বৈরাগী হত্যা মামলায় শুটার মাহামুদ হাসান হৃদয়সহ দুইজনকে আটক করেছে ডিবি পুলিশ। তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড গুলি ও একটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।
আটক অপরজন শামীম, যিনি ঘটনার দিন নিহতের অবস্থান শনাক্ত করে দেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাসার জানান, গত ৫ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৫টা ৪৫ মিনিটে মনিরামপুর উপজেলার কপালিয়া বাজারে আলম সরদারের দোতলা ভবন ও হাবিবের মার্কেটের মাঝামাঝি কাঁচা সড়কে, ঝুম বিউটি পার্লারের সামনে রানা প্রতাপ বৈরাগীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে গলা কাটা হয়। তিনি বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও বিভিন্ন পুলিশি কৌশল প্রয়োগ করে প্রথমে সাদ্দাম নামে এক আসামিকে বাগেরহাট জেলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নড়াইল থেকে রাজীব মোল্লাকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত একটি চাকু ও যাতায়াতে ব্যবহৃত একটি পালসার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। পরে রাজীব আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পুলিশ জানায় , রানা প্রতাপ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হলেও পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির নেতা শিপন আহমেদ মুন্নার নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ঘের মালিক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি করতেন। একাধিকবার তাকে সতর্ক করা হলেও তিনি তা উপেক্ষা করেন। এর জেরে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন রানা প্রতাপের অবস্থান নিশ্চিত করতে হৃদয় কপালিয়া বাজারে শামীম ও সেলিমকে পাঠান।
অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর হৃদয়, রাজীব মোল্লা ও সূর্য একটি পালসার মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে রানার সঙ্গে কথা বলেন। একপর্যায়ে তাকে গুলি করা হয়। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে গলা কাটা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী শিপন আহমেদ মুন্না ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত সূর্যকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ পর্যন্ত চারজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত