
কুয়েট শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে সংঘটিত সকল অপরাধের দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার সম্পন্ন করে একাডেমিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার জন্য লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। রবিবার দুপুর ১২টার দিকে পাঁচটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের কাছে এই দাবি পেশ করেন।
লিখিত আবেদনে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, “গত ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রতি আমরা গভীর উদ্বেগ ও দুঃখ প্রকাশ করছি। একজন সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা সকল অন্যায়ের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই এবং তদন্তসাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।”
তারা আরও বলেন, “চলমান আন্দোলনের সময় কিছু অতিউৎসাহী শিক্ষার্থীর দ্বারা আমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের প্রতি যে লাঞ্ছনা ও অসম্মানজনক আচরণ করা হয়েছে, তাতে ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের মধ্যে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। এ ঘটনার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও লজ্জিত। আমরা সকল শিক্ষকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং দোষীদের বিচার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমেই সম্পন্ন হোক—এই প্রত্যাশা করছি।”
শিক্ষার্থীরা তাদের ৫ দফা যৌক্তিক দাবির প্রতি সমর্থন জানান। তবে কিছু শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে বহিরাগত ও বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের যে দাবি তোলা হয়েছে, তার বিরোধিতা করেন তারা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, “বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠিত হলে তা তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করবে, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বাড়াবে এবং ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক আরও অবনতির দিকে যাবে।”
বিবৃতিতে শিক্ষার্থীরা বলেন, “আমরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখি এবং বিশ্বাস করি যে, প্রশাসনের মাধ্যমেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে এবং কোনো নির্দোষ শিক্ষার্থী শাস্তির মুখোমুখি হবে না।”
তারা আরও জানান, “গত তিন মাস ধরে কুয়েটে একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। আমরা আশাবাদী, চলমান সংকটের দ্রুত ও সুষ্ঠু সমাধানের মাধ্যমে আমরা খুব শিগগিরই শিক্ষাজীবনে ফিরতে পারব।”
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত