
রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড়ে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের অবরোধ চলার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দু’জন শিক্ষার্থী আহত হন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের নাম জানা যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর রফিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, বাস লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ায় দুটি জানালার কাচ ভেঙেছে। বাসের বাইরের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমাদের দুইজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আমরা বিকল্প রুট ঠিক করার পরিকল্পনা করছি।
তিনি বলেন, অর্জন নামের ক্ষতিগ্রস্ত বাসটি হাজারীবাগে অবস্থিত লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট থেকে ক্যাম্পাস রুটে শিক্ষার্থীদের আনা নেওয়ায় চলাচল করে। দুপুরের ট্রিপে সায়েন্সল্যাবে আন্দোলনকারীদের ভাঙচুরের শিকার হয় বাসটি। এটি বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দপ্তরের পরিচালক কামরুল ইসলাম বলেন, বাসের পেছনের গ্লাস পুরো ভেঙে গেছে। দরজা ও বাইরের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আনুমানিক ২০-২৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মবের মধ্যে পড়েছে, আমাদের কিছু করার ছিল না। এখন নিজেদের খরচে এটি মেরামত করা হবে।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা বলেন, অবরোধে বাস আটকে দিলে বাসে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং সাত কলেজের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা সেখানে গিয়ে বাস ছাড়িয়ে আনার সময় পেছন থেকে ইটপাটকেল ছোড়ায় কাচ ভেঙে কয়েকজন আহত হন। এছাড়া বাসের বাইরের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাহিত্য সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মুহাম্মদ ফেসবুকে একটি পোস্টে বলেন, আন্দোলনের নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপরে হামলা ও বাসে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এই হামলার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
রাজধানীর সরকারি সাতটি কলেজকে নিয়ে প্রস্তাবিত ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়’ অধ্যাদেশের হালনাগাদ করা খসড়ার দ্রুত অনুমোদন ও রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারির দাবিতে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব ও টেকনিক্যাল মোড় অবরোধ করে রাছেন শিক্ষার্থীরা। এতে তীব্র যানজট ও ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার পর থেকে এই অবরোধ কর্মসূচি শুরু করা হয়। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ এবং বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে এসে সায়েন্সল্যাব মোড়ে অবস্থান নেন।
শিক্ষার্থীদের এই অবরোধের ফলে মিরপুর রোডসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা; অনেককেই বাস থেকে নেমে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে রওনা হতে দেখা গেছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সাত কলেজকে নিয়ে পৃথক বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের ঘোষণা এলেও চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারিতে অযথা বিলম্ব করা হচ্ছে। একে কর্তৃপক্ষের ‘টালবাহানা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তারা বলেন, অবিলম্বে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ অধ্যাদেশ জারি না করা পর্যন্ত তারা সড়ক ছাড়বেন না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, আজ উপদেষ্টা পরিষদের সভায় ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশের হালনাগাদ খসড়া অনুমোদনের পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারি করতে হবে। এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশের পরিমার্জিত খসড়া মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। খসড়াটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নীতিগত সম্মতি এবং আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে (আইনি যাচাই) উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
এর আগে, বুধবার ঢাকার কয়েকটি স্থানে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। এদিন দুপুর ১টার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধ করেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মিরপুর এলাকার টেকনিক্যাল মোড়ে অবরোধ শুরু হয়। পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার মোড় অবরোধ করা হয় দুপুর পৌনে ১২টায়। এছাড়া বেলা ১টার দিকে তিতুমীর কলেজের কিছু শিক্ষার্থী মহাখালী এলাকায় ১০ মিনিট সড়ক অবরোধ করেন। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে শিক্ষার্থীরা টেকনিক্যাল মোড় ছাড়েন। আর বেলা সোয়া ৩টার দিকে শিক্ষার্থীরা তাঁতীবাজার মোড় থেকে চলে যান। অন্যদিকে বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটে সায়েন্সল্যাব মোড় ছেড়ে যান শিক্ষার্থীরা।
প্রকাশক ও সম্পাদক- আলি আবরার । নিরালা, খুলনা থেকে প্রকাশিত