সুন্দরবনে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিষ প্রয়োগে মাছ শিকার করার ঘটনায় গঠিত বন বিভাগের তদন্ত কমিটি তাদের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। তদন্তে ঘটনার মুল হোতা হিসেবে বহুল আলোচিত কথিত যুবদল কর্মী শাহরিয়ার সুমনের নাম প্রকাশ পেয়েছে।
এ বিষয়ে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) গত ৩০ আগষ্ট শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মোঃ শরীফুল ইসলামকে প্রধান এবং চাদঁপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) দ্বীপন চন্দ্র দাসকে সদস্য সচিব করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন,মোংলা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মানিক চন্দ্র গাইন,মোংলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ জাহিদুল ইসলাম ও ঢাংমারী ষ্টেশন কর্মকর্তা ডেপুটী রেঞ্জার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম।
গঠিত তদন্ত কমিটি ৩ সপ্তাহ ধরে তদন্ত করে গত ২৩ সেপ্টেম্বর তাদের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। প্রতিবেদনে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ ধরার মুল হোতা হিসেবে শাহরিয়ার সুমনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে সুমনের বিরুদ্ধে মামলা ও তার বিরুদ্ধে সুন্দরবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ অন্যান্য আইনী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
এর আগে গত ৩১ আগষ্ট মোংলা থানায় একটি মামলা হয়। মোংলা থানা পুলিশ ঐ মামলার অন্যতম আসামী শাহরিয়ার সুমনকে ৩১ আগষ্ট রাত সাড়ে ১০ টায় মোংলা উপজেলার বৈদ্যমারী বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠায়। গ্রেফতারকৃত সুমন মোংলা উপজেলার গোরা বুড়বুড়িয়া গ্রামের সেকেন্দার হাওলাদারের পুত্র।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়,গত ২৯ আগস্ট দুপুরে মোংলা উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের গোড়াবুড়বুড়িয়া এলাকায় সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের একটি খাল থেকে বিষ দিয়ে মাছ ধরে ফেরার সময় স্থানীয় গ্রামবাসী প্রায় ২০০ কেজি মাছ ও একটি নৌকাসহ দুই জেলেকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে প্রভাবশালী একটি মহলের হুমকি-ধমকিতে আটক দুই জেলেকে মাছ ও নৌকাসহ ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশেঅনিচ্ছুক এলাকাবাসীরা জানান, শাহরিয়ার সুমন একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার আর্শিবাদপুষ্ট হয়ে সুন্দরবনে জেলেদের মধ্যে ত্রাস সৃষ্টি করেছেন। সুমনের নিজের একটি জেলে গ্রুপ রয়েছে। সুমনের নেতৃত্বে তারা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ ধরে আসছে। তার জন্য সাধারণ জেলেরা সুন্দরবনে মাছ ধরতে পারেনা। সম্প্রতি সুমন জেল থেকে বের হয়ে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ ধরার ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে বিষের হোতা হিসেবে শাহরিয়ার সুমনের নাম পাওয়া গেছে। সুমনের বিরুদ্ধে মামলা করাসহ কতিপয় সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদন বিভাগীয় বন কর্মকর্তার দপ্তরে দাখিল করা হয়েছে বলে এসিএফ জানিয়েছেন।
