পূর্ব সুন্দরবনে বনরক্ষীদের নিয়মিত স্মার্ট পেট্রোলিং (টহল) এবং আধুনিক ড্রোনের মাধ্যমে নিবিড় পর্যবেক্ষণের ফলে বিষ দিয়ে মাছ ধরা ও হরিণ শিকারিদের অপতৎপরতা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছর অনেক কমে এসেছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর জুন থেকে আগস্ট—এই তিন মাসে বনরক্ষীরা সুন্দরবনে ৩,২১৪টি অভিযান চালিয়ে ৪টি বন অপরাধে মামলা দায়ের করেন। এ সময় ১৩টি নৌকা, ৬টি মাছ ধরার জাল এবং ৩২ বোতল, ২ লিটার তরল ও ৩ প্যাকেট বিষ জব্দ করা হয়। এছাড়া উদ্ধার করা হয় ১৫১.৫ কেজি বিষযুক্ত চিংড়ি এবং ৫ কেজি ও ২ বস্তা শুঁটকি মাছ। গত বছরের (২০২৫ সাল) একই সময়ে (জুন-আগস্ট) বনরক্ষীরা সুন্দরবনে অভিযান চালিয়ে বন অপরাধে ৫ জন আসামিকে গ্রেফতারসহ ৮টি মামলা দায়ের করেছিল। সে সময় ২৭টি নৌকা, ২১টি জাল, ৫২ বোতল ও ৫ লিটার বিষ, ২৪৫ কেজি বিষযুক্ত মাছ, ১৪৫ কেজি বিষযুক্ত চিংড়ি, ১৭৭ কেজি সাদা মাছ এবং ২২ বস্তা শুঁটকি উদ্ধার করা হয়েছিল।
অন্যদিকে, চলতি বছর মার্চ হতে আগস্ট পর্যন্ত ৬ মাসে হরিণ শিকার সংক্রান্ত ৬টি মামলায় ৯ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময়ে কোনো হরিণের মাংস, চামড়া বা মৃত হরিণ উদ্ধার হয়নি। ২টি নৌকা ও ৩টি ট্রলার আটকসহ জব্দ করা হয়েছে ১৪,৩৮১ ফুট মালা ফাঁদ, ১১০টি ছিটকা ফাঁদ, ৪৬ ফুট হাটা ফাঁদ এবং ৬৯টি ডোয়া ফাঁদ। গত বছরের (২০২৫ সাল) মার্চ থেকে আগস্ট সময়ে হরিণ শিকারের ২০টি মামলায় আটক হয়েছিল ১২ শিকারী। সে সময় ১৫৬.৫ কেজি হরিণের মাংস, ৫টি মাথা, ৮টি পা, ২টি চামড়া ও ২টি মৃত হরিণ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ৯টি নৌকা ও ৬টি ট্রলার আটকসহ জব্দ করা হয় ৩৩,৭০৩ ফুট মালা ফাঁদ, ২৫৮টি ছিটকা ফাঁদ, ১,৫০৫ ফুট হাটা ফাঁদ এবং ২৫ ফুট গলা ফাঁদ।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, “সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় বন বিভাগ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সোচ্চার ও প্রযুক্তি নির্ভর। আমরা দুর্গম বনাঞ্চলে নিয়মিত বিশেষ অভিযান এবং স্মার্ট পেট্রোলিং (টহল) জোরদার করার পাশাপাশি ড্রোন দিয়ে আকাশপথে নিবিড় নজরদারি পরিচালনা করছি ফলে হরিণ শিকারী ও বিষপ্রয়োগকারী অসাধু চক্রের তৎপরতা অনেকটাই বন্ধ হয়ে গেছে।”


