ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার কয়েক দিন আগেই ইসরাইলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছিলেন মিসরের সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান আব্বাস কামেল। মার্কিন সাময়িকী দ্য আটলান্টিকের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে ইসরাইলি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় কামেল সরাসরি সতর্ক করে বলেছিলেন, ‘আপনারা যদি গতিপথ পরিবর্তন না করেন, তাহলে গাজা আপনাদের জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে।’
এর আগে এক মিসরীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানিয়েছিলেন, হামাস বড় ধরনের কিছু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন একাধিক সতর্কবার্তা ইসরাইল পেয়েছিল, কিন্তু সেগুলো উপেক্ষা করেছে।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ইয়েনেটও জানিয়েছিল, হামলার প্রায় ১০ দিন আগে কামেল ব্যক্তিগতভাবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সতর্ক করেছিলেন।
তবে দ্য আটলান্টিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কামেল হামলার নির্দিষ্ট তারিখ বা বিস্তারিত তথ্য দেননি। তিনি ঠিক কোন কোন ইসরাইলি কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন, সেটিও স্পষ্ট নয়।
ইসরাইলি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের ফ্লাইট লগের বরাত দিয়ে সাময়িকীটি জানায়, কামেল যে মিসরীয় বিমানে ইসরাইলি পৌঁছেছিলেন, সেটি সেখানে ৬৭ মিনিট অবস্থান করে পরে কায়রোর উদ্দেশে ফিরে যায়।
এদিকে, সম্প্রতি প্রকাশিত হারেৎজ-এর এক তদন্তেও দাবি করা হয়েছে, ৭ অক্টোবরের হামলার কয়েক সপ্তাহ আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) প্রেসিডেন্ট ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীকে হামাসের বড় ধরনের অভিযানের প্রস্তুতি সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই নেতার মধ্যে প্রায় ৪৫ মিনিটের ফোনালাপ হয়েছিল। ওই ফোনালাপে আমিরাতের শাসকের এক উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, ইউএই প্রেসিডেন্টের মূল্যায়ন ছিল—হামাস নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার বড় ধরনের একটি অভিযান বা ঘটনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
হারেৎজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ওই সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী তা দেশটির নিরাপত্তা ও সামরিক নেতৃত্বকে জানাননি।


