খুলনায় তারাবির নামাজ আদায় করতে বেরিয়ে নিখোঁজ হওয়া ব্যবসায়ী কাজী নিজাম উদ্দিন সুজনের সন্ধান ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় পরিবার, স্বজন ও নগরবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে খুলনা নগরীর সার্বিক নাগরিক নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে সুজন নগরীর অফিসার্স ক্লাব এলাকার বাসা থেকে বের হন। এরপর মসজিদ থেকে নামাজ আদায় করে প্রায় আধা ঘণ্টা পর তিনি মসজিদ থেকে বের হন। এরপর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, তিনি মসজিদ থেকে বের হয়ে সামনের রাস্তায় কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলেন। এরপর আর তাকে কোথাও দেখা যায়নি।পরবর্তীতে আশপাশের বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তার অবস্থান জানার চেষ্টা করা হয়। তবে ওই এলাকায় একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও বেশিরভাগ ক্যামেরা নষ্ট থাকায় তার পরবর্তী গতিবিধি সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। মসজিদের সামনে থেকেই সুজনের নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনাটি এলাকাবাসীর কাছে অত্যন্ত রহস্যজনক হয়ে উঠেছে।
নিখোঁজ সুজন নগরীর অফিসার্স ক্লাব এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী কাজী আব্দুস সোবহানের ছেলে। তিনি খুলনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানের একমাত্র জামাতা।
সুজনের বাবা কাজী আব্দুস সোবহান বলেন, “আমার ছেলে নিয়মিত নামাজ পড়তে যেত। ওই রাতে নামাজ শেষ হওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ। আমরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেছি। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে, কিন্তু এখনো কোনো তথ্য পাইনি।” তিনি জানান, ছেলের সন্ধান চেয়ে রোববার খুলনা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
এ বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, “নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে কাজ চলছে। বিভিন্ন থানায় তথ্য পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার দিনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো সূত্র পাওয়া যায়নি।”
এদিকে টানা ৭২ ঘণ্টা পার হলেও কোনো অগ্রগতি না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। নাগরিকদের প্রশ্ন—যেখানে বড় শহরে দ্রুত সময়ে অপহৃত বা নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধারের নজির আছে, সেখানে খুলনায় কেন এতটা অনিশ্চয়তা ?
নগরবাসীর দাবি, নিখোঁজের ঘটনায় আরও জোরালো তৎপরতা ও সমন্বিত অভিযান চালিয়ে দ্রুত সুজনকে উদ্ধার করা হোক। একই সঙ্গে খুলনার সার্বিক নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।


