
পবিত্র ঈদুল আজহার বাকি এখনো দুই মাস। এর মধ্যেই শুরু হয়ে গেছে মসলা পণ্যের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া। অন্যান্য বছর ঈদের ১৫ দিন আগে দাম বাড়ানোর কাজ শুরু হলেও এবার সময় নিয়েই বাড়ানোর কৌশল নিয়েছেন ব্যবসায়ী, আড়তদার ও আমদানিকারকরা। এর ফলে দেখা যাচ্ছে, গত ২৯ এপ্রিল খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে যে আদার দাম ছিল ১২০-১৪০ টাকা; একই আদা গতকাল ২ মে একই বাজারে পাইকারিতে বিক্রি হয়েছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায়। তিন দিনের মধ্যে এক দিন বন্ধ ছিল বাজার। বাকি দুই দিনেই যে যার ইচ্ছামতো দামে বিক্রি করছেন আদা। অথচ একই আদা রমজানের শেষদিকে বিক্রি হয়েছিল ১২০ টাকায়।
বাজারে এখন দেশি আদার সরবরাহ তেমন একটা নেই; চাহিদার পুরোটাই সামাল দিচ্ছে মিয়ানমার থেকে আসা আদা। মিয়ানমার থেকে সমুদ্রপথে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে এবং স্থলপথে টেকনাফ দিয়ে দুভাবেই আসছে আদা। আর বাজারে ভিয়েতনামের আদা নেই, আসছে বলে শোনা যাচ্ছে; নেই থাইল্যান্ডের আদাও। তবে চীন থেকে গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে খাতুনগঞ্জে এসেছে এক কনটেইনার আদা। সেই আদা বাজারে এসেই কেজি ২০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে গতকাল; যা রেকর্ড। মূলত অনেক দিন ধরেই চীনা আদা আমদানি হচ্ছে না। এই কারণে আসামাত্রই যে যার ইচ্ছামতো দরে কিনে নিচ্ছেন। এখন সেই আদা ইচ্ছামতো দরে আড়তে বিক্রি করবেন। একই আদা চড়া দামে বিক্রি করে ক্রেতার পকেট কাটবেন খুচরা বিক্রেতারা। এখন প্রশ্ন উঠেছে ২০০ টাকা কেজি দরে পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে বিক্রি হওয়া চীনা আদা খুচরায় কত বিক্রি হবে। নিশ্চিতভাবে সেখানেও দামে রেকর্ড গড়বে।
খাতুনগঞ্জ কাঁচাপণ্য আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই বাজারে চীনা আদা নেই; এক কনটেইনার চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে খাতুনগঞ্জে আসার পর কেজি ২০০ টাকা দরে বিক্রি হয়ে গেছে। আর বাজারে থাকা মিয়ানমারের আদা ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা তিন দিন আগে ছিল ১২০-১৪০ টাকা।’
বাজারের এমন অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে অ্যাগ্রো কমোডিটি ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট রেজাউল করিম আজাদ বলেন, চীনের রসুন ও আদার চাহিদা দেশে বেশি। কিন্তু সেখানে বুকিং ১৫ দিনের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে আজকে টনপ্রতি দুই হাজার ৫০০ ডলারে পৌঁছেছে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, এই দামেও তাঁরা বুকিং নিয়ে পরে বাতিল করছেন। ফলে বিপদে পড়তে হচ্ছে।
তাঁর দাবি, বিকল্প দেশের খোঁজ করছি আমরা। এরই মধ্যে ইন্দোনেশিয়া থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে বেশ কয়েকটি কনটেইনার আদা। আর ভিয়েতনাম থেকেও আসছে আদা। এই অস্থিরতা দেখেই আমিও বুকিং বন্ধ রেখেছি। বাজার দেখেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।
বাজারে হঠাৎ আদার দাম বাড়তি দেখে আমদানি করবেন কি না ভাবছেন আমদানিকারক মনজুর মোরশেদ। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘হঠাৎ এত বেশি দাম বাড়লে বুঝতে হবে সেই দাম স্থিতিশীল হবে না। দাম কমে যাবে। ফলে বাড়তি দরের আশায় কিনে আনলে পরে দেখা যাবে, সেই আদার ক্রেতা মিলছে না। তার চেয়ে বরঞ্চ এক সপ্তাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করি।’
বাজারের যখন এই অবস্থা, তখন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কী করছে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির উপপরিচালক শাহরিয়ার মনজুর বলেন, ‘ঈদুল আজহার প্রস্তুতি, আমদানি, ঋণপত্র কেমন হবে তা নিয়ে মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে আমরা ঢাকায় ব্যবসায়ীদের ডেকে বৈঠকে বসব। এ জন্য ট্যারিফ কমিশন তথ্য সংগ্রহের কাজ করছে। এরপর সিদ্ধান্ত নিয়েই আমরা বাজার তদারকি শুরু করব।’
খাতুনগঞ্জের বাজারে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫৫ টাকায়। বাজারে এখন দেশি পেঁয়াজ ছাড়া অন্য কোনো পেঁয়াজ নেই। ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি বন্ধ। ফলে গত ১৫ মার্চ থেকেই আসছে না ভারতীয় পেঁয়াজ। তিন দিন আগে গত শনিবার দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ছোট আকারের কেজি ৪২-৪৫ টাকায়, আর বড় আকারের পেঁয়াজ কেজি ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রোজার শেষদিকে এই পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ৩৫-৪০ টাকায়।
খাতুনগঞ্জে গতকাল মঙ্গলবার দেশি রসুন বিক্রি হয়েছে কেজি ১৫০ টাকায়, ঈদের আগে এই রসুন বিক্রি হয়েছিল কেজি ১০০ টাকায়। সে হিসেবে কেজিতে ৫০ টাকা বেড়েছে রসুনের দামও। বাজারে মিয়ানমারের রসুন যেমন নেই, তেমনি নেই ভারত কিংবা চীন থেকে আসা রসুনও।
পিএসএন/এমঅাই


