বর্ষীয়ান অভিনেতা ও আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আকবর হোসেন পাঠান ফারুকের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তাকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) থেকে সাধারণ কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে।

বর্তমানে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে ফারুকের। সেখানে সঙ্গে রয়েছেন তার স্ত্রী ফারহানা ফারুক।  

তিনি বলেন, শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) ফারুককে আইসিইউ থেকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে। তিনি এখন চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন এবং কথা বলতে পারছেন। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।

গত ৪ মার্চ চেকআপের জন্য সিঙ্গাপুরে যান ফারুক। তখন তার বেশকিছু ইনফেকশন ধরা পড়লে হাসপাতালে ভর্তি হন এই অভিনেতা। হঠাৎ তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে গত ২১ মার্চ থেকে তাকে আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল।

প্রায় পাঁচ দশক ধরে বড় পর্দা মাতিয়েছেন ফারুক। তবে দীর্ঘদিন তাকে পর্দায় দেখা যায় না।

১৯৪৮ সালের ১৮ আগস্ট সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন চিত্রনায়ক ফারুক। ১৯৭১ সালে এইচ আকবর পরিচালিত ‘জলছবি’তে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রে ফারুকের আত্মপ্রকাশ ঘটে। প্রথম সিনেমায় তার বিপরীতে ছিলেন সদ্য প্রয়াত ‘মিষ্টি মেয়ে’ কবরী।  

১৯৭৫ সালে ফারুক অভিনীত ‘সুজন সখী’ ও ‘লাঠিয়াল’ সিনেমা দুটি ব্যাপক ব্যবসা সফল হয়। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। ওই বছর ‘লাঠিয়াল’র জন্য তিনি সেরা-পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। তার অভিনীত কালজয়ী সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে- ‘সূর্যগ্রহণ’, ‘নয়নমণি’, ‘সারেং বৌ’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ ইত্যাদি। ফারুক একাদশ জাতীয় সংসদের ঢাকা-১৭ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য।