ভারতে চলছে ‘পাঠান’ উন্মাদনা। এই ছবির মাধ্যমে প্রায় চার বছর বড় বড়পর্দায় ফিরছেন শাহরুখ খান। আর তাই এরইমধ্যে ফার্স্ট ডে ফাস্ট শো দেখার জন্য অগ্রিম টিকিট কাটার ধুম লেগেছে। ২৫ জানুয়ারি ভারতসহ অন্যান্য দেশে একযোগে মুক্তি পাবে আলোচনার তুঙ্গে থাকা এই সিনেমা।

এদিকে বাংলাদেশেও ‘পাঠান’-এর উন্মাদনার ঢেউ। দর্শকরা মুখিয়ে আছেন ছবিটি দেখতে। তবে আপাতত বাংলাদেশে মুক্তি পাছে না ‘পাঠান’। ঢাকা মেইলকে এ খবর জানিয়েছেন হল মালিক সমিতির উপদেষ্টা সুদীপ্ত কুমার দাস।


তিনি বলেন, “আপাতত বাংলাদেশে মুক্তি পাচ্ছে না ‘পাঠান’। আজকের মিটিংয়ে যুক্তি তর্কের এক পর্যায়ে ছবিটির মুক্তি নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি। ছবি আমদানির যে আইন আছে সে আইনের বিষয়ে বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।”

এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘আইনের ৩৪ এর খ-তে বলা আছে, উপমহাদেশীয় ভাষায় নির্মিত ছবি আমদানি করা নিষিদ্ধ। আবার ক-তে বলা আছে, সাফটাভূক্ত দেশের ছবিগুলো আমদানি করা যাবে। এখন এই দুই ধারার পক্ষে বিপক্ষে যুক্তি তর্ক হয়। কিন্তু কোনো সিদ্ধান্তে আসা যায়নি। অবশেষে বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের কাছে ব্যখ্যা চাওয়া হয়েছে ছবিটির মুক্তির ব্যাপারে।’

একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সাফটা চুক্তির বিনিময়ে ছবিটি বাংলাদেশে আমদানি করতে চায়। বিনিময়ে ভারতে রফতাতি করা হবে শাকিব খান-অপু বিশ্বাসের ‘পাঙ্কু জামাই’ সিনেমাটি। জানা গেছে, এরই মধ্যে সেখানকার ইকো এন্টারটেইনমেন্টের কাছে নাকি রফতানিও করা হয়েছে।

এর আগে গত বুধবার বাংলাদেশের সিনেমা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানটি এ–সংক্রান্ত একটি আবেদন করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের আমদানি-রপ্তানিসংক্রান্ত কমিটি মিটিংয়ে বসেন। সেই আলোচনায় যদি সবুজ সংকেত আসে তাহলে ২৭ জানুয়ারি এ দেশের মানুষ বড়পর্দায় ‘পাঠান’ দেখতে পারবেন।

এ প্রসঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের চলচ্চিত্র বিভাগের উপসচিব সাইফুল ইসলাম বলেছিলেন, “বাংলাদেশে ‘পাঠান’ মুক্তির জন্য আমরা একটি আবেদন পেয়েছি। মঙ্গলবার (আজ) বেলা তিনটার দিকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মহোদয়ের নেতৃত্বে এ–সংক্রান্ত কমিটির সদস্যরা মিটিংয়ে বসবেন। এরপর সিদ্ধান্ত হবে ছবি আনার বিষয়টি।’

অন্যদিকে ‘পাঠান’ আমদানির আবেদন করা প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার জানিয়েছিলেন, তিনি সাফটা চুক্তির নীতিমালা মেনেই বলিউড বাদশাহর সিনেমাটি আদমানির আবেদন করেছেন। সরকার তাকে আমদানির অনুমতি দেবেন বলে বিশ্বাস করেন।

সার্ক চুক্তিভুক্ত দেশসমূহের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকেই সংক্ষেপে এবং ইংরেজিতে সাফটা বলা হয়। ২০০৪ সালের জানুয়ারিতে ইসলামাবাদে সার্ক বা সাফটা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।