হেফাজতের তাণ্ডবে যারা সরাসরি জড়িত ছিল ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদেরই গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এখানে আলেম-ওলামা বা বিএনপি কোনো বিষয় না বলেও তিনি জানান।

মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) সকালে ওবায়দুল কাদের রাজশাহী সড়ক জোন, বিআরটিসি ও বিআরটিএর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় একথা জানান। তিনি তার সরকারি বাসভবন থেকে সভায় ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন।

তিনি বলেন, হেফাজতের তাণ্ডবে বিএনপি যে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত, তা আজ সবাই জানে। হেফাজত সম্প্রতি যে তাণ্ডবলীলা চালিয়েছি তার শুধু পৃষ্ঠপোষকতাই নয়, বরং এসব সহিংস ঘটনায় জড়িত ছিল বিএনপি।  

কোনো দল বা আলেম-ওলামা দেখে কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, যারা এ তাণ্ডবলীলার সঙ্গে সরাসরি জড়িত, বাড়ি-ঘরে হামলা ও আগুন দিয়েছে, তাদের ভিডিও দেখে গ্রেফতার করা হয়েছে। এখানে আলেম-ওলামা কোনো বিষয় না।  

বিএনপির নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গত কয়েকদিনের কথা শুনলে মনে হয় হেফাজতের তাণ্ডবলীলায় তারা শুধু পৃষ্ঠপোষকতাই করেনি, এই তাণ্ডবে জড়িত ছিল।  

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি নেতারা বলছেন সরকার নাকি গণবিচ্ছিন্ন। গত ১৩ বছর যাবৎ ধারাবাহিক ব্যর্থতার গ্লানিবোধ থেকে বিএনপি এসব কথা বলে। প্রকৃতপক্ষে সরকার নয়, বিএনপিই জনগণ থেকে প্রত্যাখ্যাত ও গণবিচ্ছিন্ন।

বিএনপি এক যুগের বেশি সময় ধরেই আন্দোলনের হাঁক-ডাক দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, তারা শুধু আন্দোলনই নয়, জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচন এবং উপনির্বাচনে তাদের নির্লজ্জ ভরাডুবিই প্রমাণ করে জনগণ থেকে কারা জনবিচ্ছিন্ন। করোনার এ সময়ে রাজনৈতিক বিরূপ মন্তব্য করা সমীচীন নয়।

‘পারস্পরিক দোষারোপ করোরই এসময় করা উচিত নয়। কিন্তু নিত্যদিন বিএনপির মিথ্যাচার ও অন্ধ সমালোচনার জবাব দিতে হয়। জন্মলগ্ন থেকে যে দল অগণতান্ত্রিক পথরেখা ধরে হেঁটেছে তারা আজ গণতন্ত্রের ফেরিওয়ালা সেজেছে এবং সবক দিচ্ছে দেশ ও জাতিকে। ’

ওবায়দুল কাদের বলেন, গণতন্ত্রে বন্ধুর পথ ধরে হাঁটছেন শেখ হাসিনা, বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদানে অত্যন্ত আন্তরিক বর্তমান সরকার। কিন্তু বিএনপি এ পথে বড় বাধা, তাদের অসহযোগিতা ও বাধার কারণেই গণতন্ত্রের মসৃণ যাত্রা বারবার হোঁচট  খেয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গ্রাহকদের কাছে বিআরটিএকে গ্রহণযোগ্য করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, এ প্রতিষ্ঠানে হয়রানি আগের তুলনায় কমলেও কিছু কিছু এলাকায় অভিযোগ রয়েছে, সেগুলো বন্ধ করতে হবে। বর্ষার আগেই নির্মাণাধীন কাজ এগিয়ে নিতে হবে।