স্বাস্থ্যকর পানীয়গুলোর মধ্যে স্যুপ অন্যতম। সারাদিন রোজা রাখার পরে এমন একটি খাবার দরকার যা একই সঙ্গে পুষ্টির চাহিদা পূরণ করবে এবং সহজে হজম হবে।

স্যুপের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা নিয়ে বলেছেন নারায়ণগঞ্জের চাষাড়ার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিমিটেডের ডায়েটিশিয়ান অ্যান্ড ওয়েট ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্ট শায়লা পারভিন পপি।

ইফতারের মেন্যুতে স্যুপ রাখার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, স্যুপের ৯২ ভাগই পানি। ফলে সারদিনের পানির চাহিদা পূরণ এবং পুষ্টি যোগাতে স্যুপ একটি ভালো খাবার।

স্যুপ বিভিন্নভাবে তৈরি হয়। প্রোটিনের চাহিদা বেশি হলে তাকে চিকেন স্যুপ দেওয়া যেতে পারে। ওজন কম এমন মানুষের জন্য চিকেন স্যুপের সঙ্গে ডিম, দুধ বা কর্ণফ্লাওয়ার দেওয়া যেতে পারে।

যারা ওজন কমাতে চান, তারা চিকেন অথবা সবজি দিয়ে তৈরি করতে পারেন। এটা তেল ছাড়া রান্না করে খেতে পারেন। দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে স্যুপের সঙ্গে ওটস যুক্ত করে নিতে পারেন। স্যুপের এইসব উপাদান স্বাস্থের জন্য অনেক উপকারী।

স্যুপকে স্বাস্থ্যকর এবং মুখরচক করার জন্য বিভিন্ন ধরনের মসলা ব্যবহার করা যেতে পারে। যেমন- আদা, রসুন, পেঁয়াজ, লেবুর রস, গোল মরিচ, কাঁচা মরিচ, ধনে পাতা। স্যুপের এসব উপাদানে কার্বহাইড্রেড, প্রোটিন, ফ্যাট, মিনারেল- সবাই পাওয়া যায়।

ওটস এবং কর্ণফ্লাওয়ার থেকে কার্বহাইড্রেড, চিকেন বা ডিম থেকে প্রোটিন এবং জিংক পাওয়া যায়। সবাজি থেকে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন, মিনারেল এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং ফাইবার পাওয়া যায়।

এ কারণে স্যুপকে বলা হয় একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ খাবার। এজন্য সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারে স্যুপ খেলে পানির শূন্যতা পূরণ করবে এবং খাবার হজমে সহযোগিতা করে।

অনেক রোগী আছেন সাধারণ খাবার খেতে পারেন না বা হজম হয় না। তখন তার জন্য আদর্শ খাবার হচ্ছে স্যুপ। বিভিন্ন রোগে স্যুপ খাবার হিসেবে দেওয়া হয়ে থাকে। যেমন জ্বর বা পেটের সমস্যা থাকলে স্যুপ দেওয়া হয়ে থাকে।

এছাড়া আগুনে পোড়া বা অপারেশেনের রোগীর জন্য স্যুপ হচ্ছে আদর্শ খাবার। স্যুপ প্রতিদিনের তরল, প্রোটিন এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের চাহিদা পূরণ করে থাকে।

স্যুপ প্রদাহ নিরাময়কারী নিয়ামক হিসেবে কাজ করে থাকে। স্যুপ স্লেশ্মাকে পাতলা করে। স্লেশ্মা শক্ত হলে বিভিন্ন ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করে। এজন্য বলা যায় স্যুপ ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধে বড় ধরনের ভুমিকা রাখে।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। রোজা রাখার পর ইফতারে স্যুপ খেলে সারাদিনের পানি শ্যূন্যতা এবং ক্লান্তি দূর করতে সহায়তা করবে। শরীরকে ডিহাইড্রেশনে হাত থেকে রক্ষা করবে।