করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ঘরের মধ্যে ফের মাস্ক পরার বাধ্যবাধকতা দিয়েছে ইসরায়েল। দেশটিতে নতুন করে করোনা শনাক্তদের প্রায় অর্ধেকের শরীরে পাওয়া গেছে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। এদের একটি বড় অংশই দুই ডোজ ভ্যাকসিন নিয়েছিলেন। ডেল্টা ধরনরোধে পুনরায় ইনডোরে মাস্ক পরার বাধ্যবাধকতা দিয়েছে ইসরায়েল। যদিও ১০ দিন আগে মাস্ক পরার বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়েছিল দেশটি। খবর বিবিসির।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি মাসের শুরুর দিকে ইসরায়েলে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা শূন্যে নেমে এসেছিল। কারণ দুই ডোজ ভ্যাকসিন নিয়েছে দেশটির প্রায় অর্ধেক মানুষ। কিন্তু নতুন শঙ্কার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, ভ্যাকসিন নেয়ার পরও ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। এদের মধ্যে শিশুও রয়েছে।

ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, দুই ডোজ টিকা নেয়ার পর ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হলে তাদেরও কোয়ারেন্টিন করতে হবে। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ মানুষ ফুল ডোজ টিকা নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তাছাড়া নতুন সংক্রমণের ৭০ শতাংশের জন্য দায়ী ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট।

এদিকে টিকা নেয়ার পরও নতুন করে করোনা আক্রান্ত হওয়ায় উদ্বেগ ছড়াচ্ছে দেশটিতে। যদিও ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ বলছে, টিকা নেয়ার পর আক্রান্ত হলেও গুরুতর অসুস্থ হচ্ছে না তারা। চিকিৎসা নিতে হচ্ছে না হাসপাতালে।

ইসরায়েলে এখন গড়ে কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা ১শ জনের বেশি। চলতি বছরের মে মাসের পর সংক্রমণ এখন সর্বোচ্চহারে রয়েছে দেশটিতে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ছয় হাজার চার’শ মানুষ।

২০১৯ সালের শেষের দিকে করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল ইসরায়েল। শুরুতেই দ্রুতগতিতে ইসরায়েলে আক্রমণ করেছিল করোনাভাইরাস। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে এক সপ্তাহে ৬০ হাজারের মতো আক্রান্ত রোগী পাওয়া গিয়েছিল দেশটিতে। কিন্তু সঠিক সময়ে লকডাউন ও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ায় বিপদ কাটিয়ে উঠে ইসরায়েল। এরপর শুরু হয় গণটিকাদান কর্মসূচি। ফলে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছ করোনা সংক্রমণ।