নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে অনুসন্ধান (সার্চ) কমিটি আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে প্রস্তাবিত ১০ জনের তালিকা হস্তান্তর করতে যাচ্ছে। এ তালিকা থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদে একজন ও নির্বাচন কমিশনার পদে চারজনকে নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি। আজ রাতে তাঁদের নিয়োগ দিতে পারেন তিনি। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অনুসন্ধান কমিটির সাক্ষাতের সময়সূচি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপতির প্রেসসচিব মো. জয়নাল আবেদীন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১২ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ জিল্লুর রহমানের সিদ্ধান্তে অনুসন্ধান কমিটির প্রস্তাবিত ১০ জনের নাম প্রকাশ করা হলেও এবার তা করা না-ও হতে পারে। ২০১৭ সালেও বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ অনুসন্ধান কমিটির প্রস্তাবিত ১০ জনের নামের তালিকা প্রকাশ করেননি। ওই সময়ও বিশিষ্ট নাগরিকরা ১০ জনের নাম প্রকাশের দাবি জানিয়েছিলেন। ১০ জনের তালিকা প্রকাশ করা হলে যে পাঁচজন নিয়োগ পাবেন না, তাঁদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হতে পারে—এমন বিবেচনা থেকে তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। এবার নির্বাচন কমিশন শূন্য থাকায় নিয়োগপ্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার পক্ষে বঙ্গভবন।

এবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদে সাবেক আমলার পাশাপাশি সাবেক বিচারপতির নামও আলোচনায় আছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ৭ জুলাই দেশের প্রথম নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান বিচারপতি মো. ইদ্রিস। এরপর বিচারপতি এ কে এম নুরুল ইসলাম, বিচারপতি চৌধুরী এ টি এম মাসুদ, বিচারপতি সুলতান হোসেন খান, বিচারপতি মো. আব্দুর রউফ, বিচারপতি এ কে এম সাদেক, মোহাম্মদ আবু হেনা, এম এ সাঈদ, বিচারপতি এম এ আজিজ, ড. এ টি এম শামসুল হুদা, কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ এবং সর্বশেষ কে এম নুরুল হুদা সিইসি পদে নিয়োগ পান।

এরই মধ্যে নিয়োগ পাওয়া ১২ সিইসির মধ্যে সাতজন বিচারপতি ও পাঁচজন সাবেক সচিব ছিলেন। ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত সাবেক বিচারপতিরাই সিইসি পদে নিয়োগ পেয়ে আসছিলেন। পরিবর্তিত হয় ১৯৯৬ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের পর। ওই সময় বিচারপতি এ কে এম সাদেক পদত্যাগ করলে সিইসি পদে প্রথমবারের মতো একজন সাবেক সচিব (মোহাম্মদ আবু হেনা) নিয়োগ পান। তাঁর পর নিয়োগ পান সাবেক সচিব এম এ সাঈদ। এরপর ২০০৫ সালের ২০ মে আপিল বিভাগে কর্মরত একজন বিচারপতি (বিচারপতি এম এ আজিজ) সিইসি হিসেবে নিয়োগ পেলেও আন্দোলনের মুখে ২০০৭ সালের ২১ জানুয়ারি তিনি পদত্যাগে বাধ্য হন। এরপরের তিন সিইসি হন সাবেক সচিব।

‌পিএসএন/এমঅ‌াই