বন্ধু ছাড়া কি ঈদ হয়? ঈদ মানেই তো বন্ধু বান্ধব নিয়ে হৈ-হুল্লোড়, ঘোরাঘুরি, পাড়ায় পাড়ায় আড্ডা। কম্পিউটারের স্ক্রীনে যারা সারাবছর বন্দী হয়ে থাকেন তারাও এই একদিন বন্ধুদের নিয়ে বের হয়ে পরেন ঘুরতে। যেই বন্ধুটির সাথে আপনার অনেক দিন ধরে অভিমান, সেই বন্ধুটির রাগ ভাঙ্গানোর সময়টাও এই ঈদের ছুটিতে। সংসার, চাকরি ও পড়ালেখার কারনে কাছের বন্ধুদের সাথেও দূরত্ব সৃষ্টি হয়। এই ঈদে বন্ধুর সাথে সব দূরত্ব ঘুচিয়ে দিনগুলোকে বন্ধুত্বময় করে তুলুন। আসুন জেনে নেই কিভাবে এই ঈদের ছুটিকে আরো আনন্দময় করে তুলবেন আপনার প্রিয় বন্ধুটির সাথে।

ফোন, ইনবক্স, এসএমএসঃ

কোথায় যাবেন, কি কি প্ল্যান আছে সেটা বন্ধুদের কে গ্রুপ মেসেজে জানিয়ে দিন। যেদিন বেড়ানোর পরিকল্পনা করেছেন তার আগের দিনই জানিয়ে দিন। সবার সুবিধা অসুবিধা অনুযায়ী সময় ঠিক করুন। কারো সাথে মান অভিমান থাকলে তাকে ছোট্ট একটা ম্যাসেজ পাঠিয়ে দিন। অথবা ফোন করে সরি বলে ফেলুন। একটি মাত্র ‘সরি’ আপনার বন্ধুত্বের অমূল্য সম্পদটি ফিরিয়ে দিবে।

রিকশা ভ্রমণঃ

ঈদের ফাঁকা শহরে আপনি ও আপনার বন্ধুরা অনায়েসেই রিকশায় চড়ে ঘুরে বেড়াতে পারেন। যানজট মুক্ত রাস্তায় রিকশা ঘন্টা হিসেবে ভাড়া করে বাতাস খেতে খেতে ঈদ উদযাপন করতে পারেন।

সিনেমা দর্শনঃ

ঈদের সময় সিনেমা দেখাটা অনেক পুরানো ঐতিহ্য। বহুকাল ধরে সাধারণ মানুষজন বন্ধুদের নিয়ে সিনেমা দেখতে যায় ঈদে। এইবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে আধুনিক সিনেমা হল হলো স্টার সিনেপ্লেক্স। ঈদ উপলক্ষ্যে বেশ কিছু নতুন মুভি রিলিস পেয়েছে।এছাড়া দেশের অন্যান্য অনেক সিনেমা হলে নতুন নতুন সিনেমা রিলিস পেয়েছে। যে কোনো একটা মুভি দেখে আসুন বন্ধুদের নিয়ে।

ফাস্টফুডঃ

বর্তমানে ফাস্টফুড কালচারটা অনেক জনপ্রিয়। আর ঈদের সময় খাওয়া ও সময় কাটানোর জন্য অনেকেই ফাস্ট ফুডে ভীড় করেন। বন্ধু বান্ধব নিয়ে জম্পেশ আড্ডা জমিয়ে ফেলতে পারেন কোনো আইসক্রীমের দোকানে অথবা ফ্রাইড চিকেন শপে। খাওয়া-দাওয়ার সাথে আড্ডাটা বেশ জমবে এসব দোকানগুলোতে। ক্যাফে গুলোতে যেতে পারেন বাজেট ভালো থাকলে। ক্যাফের আলো আধারী ডেকোরেশনে গল্পগুজব করতে ভালোই লাগবে।

খেলাধুলাঃ

ঈদে একটা ক্রিকেট বা ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করতে পারেন। সারাদিন হাড্ডা হাড্ডি লড়াই করে খেলা জিতে আনন্দ করার মজাই আলাদা। এছাড়া সাইকেলিং করতে পারেন। এখন যেহেতু সাইকেলিং টা একটা ট্রেন্ড তাই বন্ধুরা সবাই মিলে সাইকেল র‍্যালি অথবা রেস এর আয়োজন করতে পারেন।

বন্ধুর বাড়িঃ

কোথাও বেড়াতে ইচ্ছে না করলে সব বন্ধুরা মিলে পরিকল্পনা করে কোনো বন্ধুর বাড়িতেই আড্ডা জমিয়ে ফেলুন। যাওয়ার সময় চিপস, কোল্ড ড্রিঙ্কস ও হাল্কা কিছু স্ন্যাকস নিয়ে যান। আড্ডা দিতে দিতে খেতে পারবেন। ভালো কোনো পার্ট মিউজিক ছেড়ে নিলে আরো জমে উঠবে আড্ডাটা।

ফেসবুকঃ

সারাদিন যা যা করলেন সেগুলোর স্মৃতি ধরে রাখতে ছবি তুলে রাখুন। আর সেই ছবি আপলোড করে ফেস ট্যাগ করে দিন বন্ধুদের কে। সারাদিনের মজা গুলো ফেসবুকে দেখে ফ্ল্যাশ ব্যাকের মজাটা পাওয়াআ যাবে। সেই সাথে অন্য বন্ধুরাও আপনার দিন কেমন কাটলো তা জানতে পারবে। ঈদ মানে আনন্দ করা। দিনভর বন্ধুদের নিয়ে মজা করে কাটিয়ে দিন ঈদের ছুটিটা। ছুটি শেষ হয়ে গেলে আবার সেই যান্ত্রিক জীবনে ফিরে যেতে হবে। এই আনন্দের মূহূর্তগুলোর স্মৃতি সঙ্গে থাকলে যান্ত্রিক জীবনে ফিরে গিয়েও মনে প্রশান্তি থাকবে।