
ঘনিয়ে আসছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বাকি মাত্র চার মাস। তার আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি নিয়ে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে বিএনপি। অপরদিকে ‘পাকিস্তান ছাড়া বিশ্বের অন্য কোনো দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নেই’— এমনটি জানিয়ে এই ইস্যুর বিপরীতে অবস্থান করছে আওয়ামী লীগ। আবার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ’— এমন প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছে ক্ষমতাসীনরা। সেভাবেই আঁকছেন আগামী নির্বাচনী ছক।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সাংগঠনিক গতি বাড়িয়ে নেতাকর্মীদের সক্রিয় করার সময় এখনই। সে লক্ষ্যে কাজ করছে আওয়ামী লীগ। একই সঙ্গে চলছে ভোটারদের মধ্যে সরকারের উন্নয়ন প্রচার।
আওয়ামী লীগের ৮১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক আছেন আটজন। তারা সবাই একেক বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত। কেন্দ্রীয় কমিটির চারজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রত্যেকে দুটি করে বিভাগের দায়িত্বে আছেন। এই চারজনের মধ্যে দুজন সরকারের মন্ত্রী। তবে মন্ত্রণালয়-কেন্দ্রিক তাদের ব্যস্ততা রয়েছে। তারপরও দলের সাংগঠনিক কাজকে এগিয়ে নিতে নিয়োমিত নিজ নিজ দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় যাতায়াত ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার মূলে রয়েছে সরকারের উন্নয়ন। একই সঙ্গে বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের তুলনাও সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীদের সামনে তুলে ধরতে দেখা গেছে তাদের।
মন্ত্রণালয় বা সরকারের কোনো দায়িত্ব নেই আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম এবং মাহবুবউল আলম হানিফের। সারা বছরই ব্যস্ত থাকেন এই দুই কেন্দ্রীয় নেতা। নির্বাচনকে সামনে রেখে তাদের দৌড়ঝাঁপ বেড়েছে বহুগুণ। জেলা থেকে জেলায় ছুটে বেড়াচ্ছেন তারা।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার মূলে রয়েছে সরকারের উন্নয়ন। একই সঙ্গে বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের তুলনাও সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীদের সামনে তুলে ধরতে দেখা গেছে তাদের।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে উন্নয়নের তথ্য তৃণমূলের প্রতিটি মানুষ পর্যন্ত পৌঁছে দিতে কাজ করছে ক্ষমতাসীনরা।
এছাড়া অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটাতে সম্প্রতি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন আওয়ামী লীগ প্রধান। সবাই আগামী নির্বাচনে দলকে জয়ী করে নিয়ে আসার প্রত্যয় জানিয়েছেন গণভবনে এসে৷
আওয়ামী লীগের সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন। দীর্ঘ সময় ধরে এ বিভাগের দায়িত্ব তার কাঁধে। আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে অনেক আওগ থেকেই মাঠে আছেন এই নেতা।
এই আগস্ট মাসেও আমি জেলায় জেলায়, উপজেলায় শোকসভা করছি দলকে সুসংগঠিত করার জন্য, মানুষের মাঝে শেখ হাসিনার উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরার জন্য।
— এস এম কামাল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক, আওয়ামী লীগ
তার মতে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ‘নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত’ আওয়ামী লীগ। সাংগঠনিকভাবেও শক্তিধর তারা।
এ বিষয়ে ঢাকা মেইলের সঙ্গে আলাপকালে আহমেদ হোসেন বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় আমাদের নেতাকর্মী, সম্ভাব্য প্রার্থীরা সক্রিয় আছেন, কাজ করে যাচ্ছেন।
ঐক্য ধরে রেখে তৃণমূল আওয়ামী লীগ কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে নেতাকর্মীরা গণসংযোগ করছেন, কেন্দ্রে কেন্দ্রে যাচ্ছেন, কমিটি হচ্ছে, নির্বাচনী প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি নেই।
সিলেট বিভাগের চার জেলায় সংসদীয় আসন রয়েছে মোট ১৯টি। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ‘ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার’ হবে উল্লেখ করে সব আসনেই জয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় এই সাংগঠনিক সম্পাদক।
বিএনপি-জামায়াতের অপশাসনের চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করছি। আমরা আশা করছি, জনগণ বিবেচনা করে, তুলনা করে, উন্নয়নের জন্য নৌকার পক্ষে আবার রায় দেবে।
— এস এম কামাল হোসেন
একই বিষয়ে জানতে চাইলে ক্ষমতাসীন দলের আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন ঢাকা মেইলকে জানান, নির্বাচন সামনে রেখে আগস্ট মাস জুড়ে নানা দৌড়ঝাঁপ করেছেন তারা। গিয়েছেন জেলায় জেলায়।
রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত এই সাংগঠনিক সম্পাদক ঢাকা মেইলকে বলেন, এই আগস্ট মাসেও আমি জেলায় জেলায়, উপজেলায় শোকসভা করছি দলকে সুসংগঠিত করার জন্য, মানুষের মাঝে শেখ হাসিনার উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরার জন্য।
সরকারের উন্নয়ন তুলে ধরার পাশাপাশি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সঙ্গে আওয়ামী লীগের তুলনাও জনগণের কাছে তুলে ধরা হচ্ছে বলেও জানান ক্ষমতাসীন দলের এই নেতা।
তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াতের অপশাসনের চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করছি। আমরা আশা করছি, জনগণ বিবেচনা করে, তুলনা করে, উন্নয়নের জন্য নৌকার পক্ষে আবার রায় দেবে।


