বাইরে থেকে এতদিন তুমুল বিরোধীতার সম্মুখিন হলেও ভেতরে যারা আয়োজক কিংবা আয়োজনের সঙ্গে জড়িত, সবাই বলে আসছিল যে কোনোভাবেই হোক অলিম্পিক আয়োজন করা হবে। এমনকি আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির এক কর্মকর্তা বলেছিল, টোকিওতে জরুরি অবস্থা জারি করা হলেও অলিম্পিক আয়োজন করা হবে।

তবে এখন ভেতর থেকেই বিরোধীতার সম্মুখিন হচ্ছে আয়োজকরা। তারা সরাসরি বলে দিচ্ছে, টোকিও অলিম্পিক গেমস বাতিল করা হোক। টোকিও অলিম্পিকের এক অফিসিয়াল পার্টনার হচ্ছে আসাই শিমবান। জাপানে বহুল প্রচারিত একটি দৈনিক সংবাদপত্র এটি। টোকিও অলিম্পিকের অন্যতম অফিসিয়াল পার্টনার তারা।

আসাই শিমবান তাদের এক সম্পাদকীয়তে আজ (বুধবার) লিখেছে, যে কোনোভাবেই হোক এবারের অলিম্পিক গেমস বাতিল করা হোক। তারা এই দাবির পেছনে শক্ত যুক্তি হিসেবে দাঁড় করিয়েছে, করোনার বর্তমান উর্ধ্বগতির পরিস্থিতিকে। আসাই শিবমান বলছে, এই গেমস আয়োজন জনসাধারণের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে এবং মেডিক্যাল সিস্টেম ভেঙে পড়ার উপক্রম হতে পারে।

টোকিও কিংবা জাপানজুড়ে যতই জরিপ করা হোক, প্রতিটি জরিপেই দেখা যাচ্ছে সাধারণ মানুষের বিশাল একটি অংশ এই করোনা পরিস্থিতিতে অলিম্পিক গেমস আয়োজনের তুমুল বিরোধী। বিশেষ করে যেখানে ১০ হাজারের বেশি অ্যাথলেট, সমান সংখ্যক কর্মকর্তা সারা বিশ্ব থেকে এই গেমসে অংশগ্রহণ করতে আসবে, তখন জাপানে করোনা পরিস্থিতি যে কী ধরনের মারাত্মক পরিস্থিতি তৈরি করবে, তা চিন্তা করলেও শিউরে উঠেন দেশটির নাগরিকরা।

গত বছর থেকেই জাপানে বিদেশীদের আসা-যাওয়া বেশ নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা হয়েছে। শুধু তাই নয়, অলিম্পিককে সামনে রেখে ব্যাপকহারে ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম চালানোর পরও দেশটির সাধারণ মানুষ গেমস আয়োজনের পক্ষে নয়।

জাপানের ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনও অলিম্পিক গেমস আয়োজনের তুমুল বিরোধী। বিনিয়োগকারীরাও বলছেন, তারা তাদের বেনিফিট ছেড়ে দেবেন, তবুও গেমস যেন আয়োজন করা না হয়। জাপানের বিখ্যাত ব্যবসায়ীরা যেমন, মাসাইয়োসি সন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন গেমস বাতিল করার জন্য।

জাপানের সবচেয়ে প্রভাবশালী পত্রিকা আসাই শিমবান যখন সম্পাদকীয় প্রকাশ করে দাবি তুলেছে, গেমস বাতিল করার জন্য তখন বিষয়টা সবাইকে ভাবাবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পত্রিকাটি লিখেছে, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগাকে অনুরোধ খুব শান্তভাবে এবং বিষয়ভিত্তিক চলমান পরিস্থিতিকে বিচার বিশ্লেষণ করতে এবং গেমসটি বাতিল করে দিতে। আমরা প্রকৃত অবস্থা থেকে অনেক দুরে অবস্থান করছি। যে কারণে, আমাদের (আয়োজকদের) সবারই চরম আত্মবিশ্বাস যে, সবাই নিরাপদ এবং নিশ্চিন্তে থাকতে পারবে।’

তবে শুধু আসাই শিমবান’ই নয় আরও বেশ কিছু জাপানি দৈনিক যেমন নিক্কি, দ্য মেইনিশি এবং দ্য ইয়োমিউরি ও অলিম্পিক গেমসের অফিসিয়াল পার্টনার।

টোকিওসহ জাপানের বিভিন্ন শহরে এখন চলছ থার্ড স্টেট ইমার্জেন্সি তথা তৃতীয় জরুরি অবস্থা। ধারণা করা হচ্ছে এই জরুরি অবস্থা আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।