করোনা মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলো অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। সেখানে সংক্রমণ আগের চেয়ে কমে এসেছে। এর বিপরীতে স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে করোনা সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এ অবস্থায় সারাবিশ্বে করোনায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৪ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। একই সময়ে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ৮ লাখের বেশি।

বৃহস্পতিবার (৬ মে) সকাল সোয়া ৮টায় আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে মোট ১৪ হাজার ২৭৮ জনের মৃত্যু হয়। আর করোনা শনাক্ত হয় ৮ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩১ জন।

এ নিয়ে বিশ্বব্যাপী এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে মোট ১৫ কোটি ৫৮ লাখ ১৯ হাজার ৪৭৫ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ৩২ লাখ ৫৫ হাজার ২৫২ জন। আর সুস্থ হয়েছেন ১৩ কোটি ৩২ লাখ ১৬ হাজার ৬৬৩ জন।

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় সবার উপরে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে এ পর্যন্ত করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ৩ কোটি ৩৩ লাখ ২১ হাজার ২৪৪ জন। আর মারা গেছেন ৫ লাখ ৯৩ হাজার ১৪৮ জন। সুস্থ হয়েছেন ২ কোটি ৬০ লাখ ৩৫ হাজার ৩১৪ জন।

এর পরেই রয়েছে ভারত। গত কয়েকদিন ধরে দেশটিতে দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ২ কোটি ১০ লাখ ৭০ হাজার ৮৫২ জন। আর মারা গেছেন মোট ২ লাখ ৩০ হাজার ১৫১ জন। সুস্থ হয়েছেন ১ কোটি ৭২ লাখ ৬৯ হাজার ৭৬ জন।

তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে ব্রাজিল। ল্যাটিন আমেরিকার দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ কোটি ৪৯ লাখ ৩৬ হাজার ৪৬৪ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ৪ লাখ ১৪ হাজার ৬৪৫ জন। আর সুস্থ হয়েছেন ১ কোটি ৩৫ লাখ ২৯ হাজার ৫৭২ জন।

চতুর্থ স্থানে থাকা ফ্রান্সে এখন পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছে ৫৭ লাখ ৬ হাজার ৩৭৮ জন করোনা রোগী। এর মধ্যে মারা গেছেন ১ লাখ ৫ হাজার ৬৩১ জন। আর সুস্থ হয়েছেন ৪৭ লাখ ২৯ হাজার ১৭৪ জন।

শনাক্তের দিক দিয়ে এখন পঞ্চম স্থানে তুরস্ক। দেশটিতে এখন পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছেন ৪৯ লাখ ৫৫ হাজার ৫৯৪ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ৪১ হাজার ৮৮৩ জন। সুস্থ হয়েছেন ৪৫ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ জন।

এ ছাড়া তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে রাশিয়া, সপ্তম স্থানে যুক্তরাজ্য, অষ্টম স্থানে ইতালি, নবম স্থানে স্পেন এবং দশম স্থানে রয়েছে জার্মানি।

সংক্রমণ ও মৃত্যুর তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৩৩তম। দেশে এখন পর্যন্ত ৭ লাখ ৬৭ হাজার ৩৩৮ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছেন ১১ হাজার ৭৫৫ জন। আর সুস্থ হয়েছেন ৬ লাখ ৯৮ হাজার ৪৬৫ জন।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। দেশটিতে করোনায় প্রথম রোগীর মৃত্যু হয় ২০২০ সালের ৯ জানুয়ারি।

ওই বছরের ১৩ জানুয়ারি চীনের বাইরে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় থাইল্যান্ডে। পরে ধীরে ধীরে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

করোনা প্রাদুর্ভাবের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৩০ জানুয়ারি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

গত বছরের ২ ফেব্রুয়ারি চীনের বাইরে করোনায় প্রথম কোনো রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ফিলিপাইনে। ওই বছরেরই ১১ মার্চ করোনাকে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।