লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৫ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বিশ্বে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুতে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সংক্রমণে এর পরেই রয়েছে ভারত এবং মৃত্যুতে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্রাজিল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভ্যাকসিনের ধীর গতির কারণে ব্রাজিলে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে। দেশটির সরকার করোনা মহামারির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে ব্যর্থ হওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে।

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জেইর বোলসোনারো সামাজিক দূরত্ব এবং কঠোর বিধি-নিষেধে ফিরে যেতে রাজি নন। কিছুদিন আগেই একটি মোটরবাইক র্যালিতে মাস্ক ছাড়া অংশ নেয়ায় তাকে জরিমানা করা হয়েছে। এটাই প্রথম নয়, করোনার বিধি-নিষেধ অমান্য করায় এর আগেও তাকে জরিমানা গুনতে হয়েছে।

দেশটির স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট ফিওকরাজ জানিয়েছে, পরিস্থিতি খুবই জটিল। দেশের মাত্র ১৫ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ককে ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে।

পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, ব্রাজিলে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ৭৮ লাখ ৮৩ হাজার ৭৫০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রাণ হারিয়েছে ৫ লাখ ৮৬৮ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ কোটি ৬১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৪৯ জন।

দেশটিতে বর্তমানে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ১১ লাখ ৯৯ হাজার ৩৩। এছাড়া আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন ৮ হাজার ৩১৮ জন। প্রথম থেকেই মহামারি পরিস্থিতিকে গুরুত্বের সঙ্গে না নেয়ার কারণে সমালোচনার শিকার হয়েছেন প্রেসিডেন্ট জেইর বোলসোনারো।

লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে এখন পর্যন্ত সংক্রমণ ও মৃত্যু সবচেয়ে বেশি ব্রাজিলে। এরপরেই রয়েছে পেরু, চিলির মতো দেশগুলো। চীন থেকে প্রথম এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটলেও বর্তমানে ২২০টির বেশি দেশ ও অঞ্চলে এই ভাইরাস তাণ্ডব চালাচ্ছে।