খুলনা প্রেসক্লাবে জেলা প্রশাসকের বিদায়ী সংবর্ধনা

খুলনা প্রেসক্লাবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেনকে খুলনা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে দেয়া বিদায়ী সংবর্ধনায় তাঁকে ‘খুলনার বন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
মহামারি করোনাকালে সাধারণ মানুষের চরম বিপর্যয়ের সময়টিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে হেলাল হোসেন দিন-রাত কাজ করেছেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। খুলনার মানুষের ‘পরীক্ষিত বন্ধু’ হিসেবেই করোনা সঙ্কটময় মুহুর্তে তাদের কল্যাণে নিজেকে সমর্পণও করেছেন। যে কারণে সাধারণ মানুষের হৃদয়ের মনিকোঠায় ঠাঁই করে নিয়েছেন মানবিক এ জেলা প্রশাসক।


খুলনায় প্রায় তিন বছর দায়িত্বপালনকালে তিনি কর্ম সম্পাদনে ছিলেন অত্যন্ত সাহসী ও খুব দক্ষ একজন কর্মকর্তা। খুলনায় শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু বোটানিক্যাল গার্ডেন, শেখ রাসেল ইকোপার্ক, ক্যান্সার ও ডেন্টাল কলেজ  প্রতিষ্ঠায় অনবদ্য অবদানসহ রেখে যাচ্ছেন শত শত সফল কাজের উদাহরণ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনাদর্শ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশে তিনি কাজ করেছেন নিরন্তন। শ্রেষ্ঠ জেলা প্রশাসক হিসেবেও হেলাল হোসেন নির্বাচিত হয়েছেন। বিদায়ী সংবার্ধনা অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় সাংবাদিক নেতারা তাঁর সম্পর্কে এমন মন্তব্য করেন।
স্বাস্থ্য বিধি মেনে বুধবার (২৩ জুন) দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম জাহিদ হোসেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমেদ মোল্লা।
অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোঃ সাদিকুর রহমান খান, খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন মিন্টু, শেখ আবু হাসান, এ কে হিরু ও ফারুক আহমেদ, ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ মুন্সি মাহবুব আলম সোহাগ, সহ-সভাপতি মো: তরিকুল ইসলাম, সাবেক সধারণ সম্পাদক মল্লিক সুধাংশু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) শেখ দিদারুল আলম, যুগ্ম-সম্পাদক সোহরাব হোসেন, সহকারী সম্পাদক মোঃ মাকসুদুর রহমান (মাকসুদ) ও মাহবুবুর রহমান মুন্না, নির্বাহী সদস্য মোঃ মোজাম্মেল হক হাওলাদার, সদস্য অমিয় কান্তি পাল, এস এম সাহিদ হোসেন, খুলনা টিভি রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সুনীল কুমার দাস ও নবনির্বাচিত সভাপতি রকিব উদ্দিন পান্নু, খুলনা ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি মোঃ জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
এ সময়ে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, খুলনা প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য মো: শাহ আলম ও শেখ মাহমুদ হাসান সোহেল,  ক্লাব সদস্য মোঃ হুমায়ুন কবীর, দেবব্রত রায়, এস এম কামাল হোসেন, হারুন-অর-রশীদ,  আনোয়ারুল ইসলাম কাজল, আহমদ মুসা রঞ্জু, আসাদুজ্জামান খান রিয়াজ, শেখ লিয়াকত হোসেন, মোঃ আসাফুর রহমান কাজল, দীলিপ কুমার বর্মন, ক্লাবের ইউজার সদস্য রীতা রানী দাস, মোঃ আবুল বাশার, এস এম বাহাউদ্দিন, মোঃ হেলাল মোল্লা, আলী আবরার, মোঃ কলিন হোসেন আরজু, তুফান গাইনসহ অন্যান্য সাংবাদিকবৃন্দ।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, বিভাগীয় শহর খুলনা একটি উল্লেখযোগ্য জেলা। আমার দায়িত্বকালিন সময়ে যা কিছু উন্নয়ন হয়েছে তা’ সরকারের পক্ষ থেকেই করা হয়েছে। খুলনার মানুষ সবক্ষেত্রে একটু বেশি আন্তরিক। এখানে থাকা অবস্থায় চেষ্টা করেছি মানুষের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কাজ করার। তারপরও সব দায়িত্ব পালন করতে পারিনি। সবকিছু মিলিয়ে খুলনার সাংবাদিকরা আমাকে সব ধরনের সহযোগিতা করেছেন। যেখানেই যাই না কেন খুলনার মানুষের প্রতি আমার আন্তরিকতা থাকবে। আমার খুলনায় কর্মকালে সকল কাজের সহযোগিতা করেছেন ও সাহস জুগিয়েছেন এ জেলার মন্ত্রী ও সকল সাংসদেরা বিশেষ করে সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন ও সেখ সালাউদ্দিন জুয়েল, খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক।
এ সময়ে আবেগাপ্লুত খুলনা জেলা প্রশাসক বলেন, সাংবাদিকরা আমাকে এত ভালোবাসে তা এভাবে আগে বুঝতে পারিনি।  
প্রেসক্লাবের সভাপতি বলেন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন একজন সাংবাদিকবান্ধব সরকারী কর্মকর্তা। খুলনার উন্নয়নে তাঁর আন্তরিক উদ্যোগ ও খুলনা প্রেসক্লাব-এর প্রতি সহমর্মিতা ও দায়বদ্ধতা  খুলনার সাংবাদিকরা আজীবন  মনে রাখবে। তিনি খুলনার সকল উন্নয়নে বিশেষ করে করোনাকালে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খুলনারবাসীর পাশে ছিলেন । যে কারণে খুলনা প্রেসক্লাবের পক্ষ তেকে তাকে ‘খুলনার বন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে।
এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে বিদায়ী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হোলাল হোসেনের হাতে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন মিন্টু এবং  খুলনা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন ক্লাবের সভাপতি এস এম জাহিদ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমেদ মোল্লা।