দ্রুত সময়ের মধ্যে করোনা সংকট কাটিয়ে উঠতে গুরুত্বপূর্ণ দু’টি প্রকল্পে বড় অংকের ঋণ অনুমোদন দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ ও উদ্যোক্তা তৈরির জন্য ৬০ কোটি ডলার অনুমোদন দিয়েছে সংস্থাটি।প্রতি ডলার সমান ৮৫ টাকা ধরে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫ হাজার ১শ কোটি টাকা।

বিশ্বব্যাংকের ওয়াশিংটনের হেড অফিস এই অর্থের অনুমোদন দেয়। শুক্রবার (২১ মে) বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগাতে দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর দক্ষতা উন্নয়নে ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। এই ঋণের টাকায় বাস্তবায়ন করা হবে ‘অ্যাকসিলারেটিং অ্যান্ড স্ট্রেনদেনিং স্কিলস ফর ইকোনমিক ট্রান্সফরমেশন (এএসএসইটি)’ শীর্ষক প্রকল্প। এই প্রকল্পে ৩০ কোটি ডলার দেবে সংস্থাটি। কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের অধীনে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মান উন্নয়ন এবং সম্প্রসারণে কাজ করবে এই প্রকল্প।

বাংলাদেশ সাম্প্রতিক দশকে দ্রুত সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি সাধন করে একটি মধ্যম আয়ের স্থিতিতে পৌঁছেছে। দেশে বর্তমান ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ চলছে। এর সুফল পেতে হলে আমাদের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ করে গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

এ পরিস্থিতিতে প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পর্যাপ্ত আপগ্রেডেশনের প্রয়োজনীয়তা ও কোভিড পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন উদ্যোগে প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থেকে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকা ও কর্মক্ষম থাকার জন্য যুগোপযোগী দক্ষতা অর্জনে মনোযোগী হওয়া জরুরি বলে মনে করছে কারিগরি শিক্ষা অধিদফতর। সে কারণেই এই প্রকল্পটিতে ৩০ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে সংস্থাটি।

অন্যদিকে রেজিলিয়েন্স, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড লাইভলিহুড ইমপ্রুভমেন্ট (আরইএলআই)’ প্রকল্পে ৩০ কোটি ডলার অনুমোদন করেছে সংস্থাটি। এর মাধ্যমে উদ্যোক্তা সৃষ্টি করা হবে। ২০টি জেলায় ৩ হাজার ২শ গ্রামের প্রায় সাড়ে সাত লাখ দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা হবে এর মাধ্যমে।

বাংলাদেশ ও ভুটানের দায়িত্বে থাকা বিশ্ব ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর দানদান চেন বলেন, করোনা সংকট হাজার হাজার মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত করেছে। বিশেষ করে নারী শ্রমিক, যুবক ও বিদেশফেরত শ্রমিকদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

সহজ শর্তে স্বল্প সুদের (০ দশমিক ৭৫ শতাংশ সার্ভিস চার্জ) এই ৬০ কোটি ডলারের ঋণ ৫ বছরের রেয়াতকালসহ ৩০ বছরে পরিশোধ করতে হবে।