আজ থেকে শুরু হচ্ছে জমজমাট ইউরো কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াই। সেমিফাইনালের টিকিট পেতে প্রথম ম্যাচে লড়বে ইউরোর সর্বোচ্চ তিনবারের চ্যাম্পিয়ন স্পেন ও প্রথমবারের মতো কোয়ার্টারের টিকিট পাওয়া সুইজারল্যান্ড। বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় রাশিয়ান ক্লাব এফসি জেনিথের মাঠ ক্রেস্তভোস্কি স্টেডিয়ামে হবে ম্যাচটি।

নাটকীয়তায় ভরপুর এবারের ইউরোতে পরিষ্কার ফেবারিট বলার সুযোগ নেই কোনো দলকে। তবে কাগজে কলমের হিসেবে ঢের এগিয়ে রয়েছে স্পেন। সুইসদের বিপক্ষে মুখোমুখি লড়াইয়ে ২২ ম্যাচের মধ্যে মাত্র ১ বার হেরেছে স্প্যানিশরা। সেটিও প্রায় ১১ বছর আগে, ২০১০ সালের বিশ্বকাপে।

চলতি ইউরোতে শুরুটা তেমন ভালো না হলেও, শেষ দুই ম্যাচে দারুণ পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে স্পেন। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে স্লোভাকিয়াকে ৫-০ গোলে হারানোর পর, দ্বিতীয় রাউন্ডে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জিতেছে ৫-৩ গোলে। ইউরো কাপের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে পরপর দুই ম্যাচে ৫ গোল করেছে তারা।

সুইজারল্যান্ডও উজ্জীবিত পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে নিজেদের শেষ দুই ম্যাচে। তুরস্কের বিপক্ষে গ্রুপের শেষ ম্যাচটি ৩-১ গোলে জিতে দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করে তারা। আর দ্বিতীয় রাউন্ডে স্বপ্নের মতো এক ম্যাচ খেলে ৩-৩ গোলে ড্র করে ফ্রান্সের সঙ্গে। পরে টাইব্রেকারে ৫-৪ ব্যবধানে জিতেছে পেয়েছে কোয়ার্টারের টিকিট।

এখন সুইসদের সামনে ইতিহাস গড়ার হাতছানি। এর আগে কখনও ইউরো কাপের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেনি তারা। বিশ্বকাপে তিনবার (১৯৩৪, ১৯৩৮ ও ১৯৫৪) কোয়ার্টারে পৌঁছালেও, কোনোবারই পায়নি সেমির টিকিট। এবার স্পেনকে হারাতে পারলে প্রথমবারের মতো পাবে মেজর টুর্নামেন্টের সেমিতে খেলার স্বাদ।

অন্যদিকে স্পেন রয়েছে শিরোপা পুররুদ্ধারের মিশনে। ২০০৮ ও ২০১২ সালে পরপর দুইবার চ্যাম্পিয়ন হলেও, ২০১৬ সালের আসরে তাদের শিরোপা কেড়ে নেয় পর্তুগাল। চলতি আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়ে শিরোপা পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি প্রথম দল হিসেবে চারবার ইউরো জয়ের লক্ষ্য লুইস এনরিকের শিষ্যদের।

সার্বিক দিক বিবেচনায় মোটেও নির্ভার থাকতে পারছেন না স্প্যানিশ কোচ। ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে এনরিকে বলেছেন, ‘তারা খুবই শক্ত একটি দল। দর্শকদের জন্য হয়তো বড় কোনো নাম নেই তাদের দলে। কিন্তু সংঘবদ্ধভাবে দুর্দান্ত ফুটবল খেলে তারা। তারা আমাদের জন্য কঠিন প্রতিপক্ষই হতে চলেছে।’

এদিকে কার্ডজনিত নিষেধাজ্ঞায় দলের অন্যতম সেরা তারকা গ্রানিত শাকাকে পাচ্ছে না সুইজারল্যান্ড। এ বিষয়ে দলের কোচ ভ্লাদিমির পেতকোভিচ বলেছেন, ‘শাকার না থাকা আমাদের জন্য একটি নেতিবাচক দিক। তবে আমার কাছে পরিকল্পনা আছে কীভাবে তার অভাব পূরণ করা যায়। স্পেন শক্তিশালী দল। তাই আমাদের সবাইকে ১০ শতাংশ বেশি দিতে হবে মাঠে।’

স্পেনের সম্ভাব্য শুরুর একাদশ: উনাই সিমন, সিজার আজপিলিকুয়েতা, এরিক গার্সিয়া, এমেরিক লাপোর্তে, জর্দি আলবা, কোকে, সার্জিও বুসকেট, পেদ্রি গনজালেজ, পাওলো সারাবিয়া, আলভারো মোরাতা ও ফেররান তোরেস।

সুইজারল্যান্ডের সম্ভাব্য শুরুর একাদশ: সোমার, এলভেদি, আকাঞ্জি, রদ্রিগেজ, উইদমার, ফ্রেউলার, জাকারিয়া, জুবের, শাকিরি, এম্বোলো ও সেফেরোভিচ।