নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের আনাগোনা বেড়েছে কয়েকগুণ। শারদীয় দুর্গাপূজা, ঈদে মিলাদুন্নবী ও সাপ্তাহিক ছুটিতে সৈকতে ঢেউয়ের সঙ্গে মিতালিতে নেমেছেন হাজারো পর্যটক।

হোটেলে রুম খালি না থাকায় পর্যটকদের আবাসন সুবিধা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন হোটেল-মোটেল মালিকরা। এদিকে পর্যটকরা বিভিন্ন জায়গায় হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলেও জানা গেছে।

ভ্রমণে এবার এক সঙ্গে তিনটি ছুটি যোগ হয়েছে। এর মধ্যে শারদীয় দুর্গাপূজা, মিলাদুন্নবীর ছুটি ও শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক সরকারি ছুটি। আর এই ছুটিতে ভ্রমণ পিপাসুরা এবার ভিড় করেছেন কুয়াকাটায়। প্রচুর পর্যটক এসেছে এবার। থাকার জায়গা না পেয়ে অনেক পর্যটক আশপাশের বাসায় রাত্রীযাপন করছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, ৮০ ভাগ হোটেলের রুম আগাম বুকিং হয়ে গেছে। প্রতি বছরের বিশেষ বিশেষ দিনগুলোতে কুয়াকাটায় পর্যটকদের বাড়তি উপস্থিতি দেখা যেত। কিন্তু, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর সাপ্তাহিক ছুটিসহ সরকারি ছুটির দিনগুলোতে কুয়াকাটায় পর্যটকের ভিড় একটু বেশি দেখা যায়।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সরেজমিনে সৈকতে কথা হয় ঢাকা থেকে কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা সালমা বেগম নামে এক পর্যটকের। তিনি বলেন, পরিবারসহ এই বন্ধে বেড়াতে এসেছি। এর আগে কুয়াকাটায় আসতে ফেরিতে ভোগান্তি পোহাতে হতো। তবে এবার অল্প সময়ে বাসে করে কুয়াকাটায় পৌঁছেছি। খুব ভালো লাগছে।

পর্যটক জাবের হোসাইন বলেন, আগের চেয়ে কুয়াকাটায় এখন অনেক পর্যটক আসে। খুব ভালো লাগছে। আমরা ঢাকা থেকে এসেছি। তবে হোটেল রেস্তোরাঁগুলোতে দাম অনেক বেশি।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ বলেন, পূজাসহ বিভিন্ন সরকারি ছুটির বন্ধ উপলক্ষে পাঁচ থেকে ছয় দিন কুয়াকাটা হোটেলে ৯০ ভাগ বুকিং হয়ে গেছে। আশা করছি সকল বন্ধের সময়েই এ রকম পর্যটকদের আনাগোনা থাকবে কুয়াকাটাতে।

ছুটিতে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তায় পুলিশের কয়েকটি দল প্রস্তুত রয়েছে জানিয়ে কুয়াকাটা পর্যটন পুলিশের পরিদর্শক হাসনাইন পারভেজ বলেন, সবার নিরাপত্তা দিতে আমরা তৎপর রয়েছি। সাগরের পানিতে গোসল করতে নেমে কেউ যাতে দুর্ঘটনার শিকার না হন, এজন্য তাদের সতর্ক করতে পর্যটন পুলিশের আলাদা দল তৎপর রয়েছে।

পিএসএন/এমঅ‌াই