করোনাভাইরাস মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় পাকিস্তান থেকে অক্সিজেন আমদানি করতে চায় পাঞ্জাব। কিন্তু ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারই এতে বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে রাজ্যটি।

পাঞ্জাব প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির (পিপিসিসি) প্রধান সুনীল জাকাড় বলেছেন, পাকিস্তানে রফতানি করার মতো অক্সিজেন রয়েছে এবং পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং সেখান থেকে জরুরি ভিত্তিতে আমদানিতে সম্মতিও দিয়েছেন। কিন্তু এই প্রক্রিয়ার পথ আটকে রেখেছে কেন্দ্রীয় সরকার।

করোনাভাইরাসের প্রকোপ বৃদ্ধিসহ সাম্প্রতিক বেশ কিছু ইস্যু নিয়ে গত সোমবার বিশেষ বৈঠক ডেকেছিল পাঞ্জাবের মন্ত্রিসভা। বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন পিপিসিসি প্রধানও।

পরে তিনি মোদি সরকারের দিকে অভিযোগ তুলে বলেন, রাজ্যে যদি অক্সিজেনের অভাবে আর একটিও প্রাণ যায়, তবে তার জন্য কেন্দ্র দায়ী থাকবে।

সুনীল বলেন, মুখ্যমন্ত্রী আমাদের বলেছেন, তিনি বিষয়টি (পাকিস্তান থেকে অক্সিজেন আমদানি) কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে তুলে ধরেছেন। কিন্তু সেখান থেকে এখনও কোনও ইতিবাচক সাড়া পাননি।

পাঞ্জাবের এ নেতা বলেন, এই অক্সিজেন পেলে আমরাই তার খরচ বহন করব। রাজ্যের মানুষজনকে রক্ষায় এটি জরুরি প্রয়োজন।

এদিকে, পাকিস্তান থেকে অক্সিজেন আমদানির জন্য পাঞ্জাবে একটি বিশেষ করিডোর চালুর আবেদন জানিয়ে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে চিঠি দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা ও অমৃতসরের সংসদ সদস্য গুরজিৎ সিং অজলা।

চিঠিতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেছেন, আপনি ভালোভাবেই জানেন আমাদের হাসপাতালগুলোতে তরল অক্সিজেন, ভেন্টিলেটর, বাই-পাপ, অক্সিজেনারেটর, পিপিইর চরম সংকট দেখা দিয়েছে। জরুরি এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সহায়তার প্রস্তাব আমাদের দু’হাত বাড়িয়ে স্বাগত জানানো উচিত। পাকিস্তান সরকার ও ইধি ফাউন্ডেশন প্রাণঘাতী করোনার ঢেউ মোকাবিলায় ভারতকে সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছে।

কংগ্রেসের এ নেতা আরও বলেন, আমি আন্তর্জাতিক সীমান্তে অবস্থিত পবিত্র শহর অমৃতসরের প্রতিনিধিত্ব করছি, যা পানিপথ (নিকটবর্তী অক্সিজেন প্লান্ট) থেকে ৩৫০ কিলোমিটার এবং পাকিস্তানের লাহোর থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে। অমৃতসরে দৈনিক ৩০ টনের মতো অক্সিজেনের চাহিদা রয়েছে, কিন্তু পাঞ্জাবের জন্য বরাদ্দ কোটা খুবই সামান্য এবং সেটুকুরও সরবরাহ অতিদুর্বল।

তিনি বলেন, অমৃতসর বর্তমানে পানিপথ থেকে ট্রাক-ট্যাঙ্কারে করে অক্সিজেন পাচ্ছে, যা নির্বিঘ্ন সরবরাহের নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা নয়। কারণ সংকট মেটাতে পর্যাপ্ত ট্র্যাক-ট্যাঙ্কার পাওয়াই যায় না।

প্রসঙ্গত, গত কয়েকদিনে বিশ্বরেকর্ড সংক্রমণের মধ্যে চরম অক্সিজেন সংকটে ভেঙে পড়তে বসেছে ভারতের চিকিৎসা ব্যবস্থা। এ অবস্থায় ‘সংহতির নিদর্শন’ হিসেবে দেশটিতে মেডিক্যাল সহায়তা পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে ‘চিরশত্রু’ পাকিস্তান

গত শনিবার রাতে পাকিস্তান সরকার ঘোষণা দিয়েছে, তারা ভারতে সহায়তা হিসেবে ভেন্টিলেটর, ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন ও ব্যক্তিগত সুরক্ষা উপকরণ পাঠাতে চায়।

এক বিবৃতি পাকিস্তানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, সহায়তা সরঞ্জামগুলো দ্রুত ডেলিভারির ব্যবস্থা করতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

পাকিস্তান সরকার ছাড়াও দেশটির ইধি ফাউন্ডেশন ভারতে ৫০টি অ্যাম্বুলেন্স ও মেডিক্যাল কর্মী পাঠানোর প্রস্তাব দিয়ে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে চিঠি দিয়েছে।