পিরিয়ডের ব্যথা কমানোর ওষুধ

পিরিয়ডের ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে বেশিরভাগ নারীই এসময়ে মুঠো মুঠো ব্যথা কমানোর ওষুধ খেয়ে থাকেন। কিন্তু এমন ওষুধ অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে হিতে বিপরীত হতে পারে। এতে ব্যথা হয়তো সাময়িকভাবে কমে, কিন্তু পেইন কিলার শরীরের অন্যান্য ক্ষতি করে।

ঘরোয়া উপায় কাজে লাগিয়ে কষ্টকর এই অনুভূতি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। কিছু খাবার রয়েছে যা পিরিয়ডের ব্যথা কমানোর ক্ষেত্রে কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

পিরিয়ডের ব্যথা কমানোর খাবার

ক্যামোমাইল টি

পিরিয়ডের সময় ক্যামোমাইল টি উপকার করতে পারে। এই বিশেষ চায়ের রয়েছে ‘অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি’ এবং ‘অ্যান্টি স্প্যাসমোডিয়্যাক’ বৈশিষ্ট্য। যা ঋতুস্রাবজনিত কষ্ট অনেকটাই লাঘব করতে সক্ষম। পিরিয়ডের সময় ক্যাফিনযুক্ত পানীয় পান করতে মানা করা হয়। সেদিক থেকে ক্যামোমাইল টি সম্পূর্ণ ক্যাফিনমুক্ত।

এই চা খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেহে ‘গ্লাইসিন’ নামক একটি উৎসেচক তৈরি হয়। এটি স্নায়ুকে নিস্তেজ করে দেয়। ফলে যন্ত্রণার অনুভূতি কমে।

ফ্ল্যাক্স সিড ও চিয়া সিড

এই দুই বীজে রয়েছে ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। এগুলো দুটি ঋতুস্রাবের মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে আনে। প্রতি মাসে নির্ধারিত সময়ে পিরিয়ড হলে, ব্যথার পরিমাণও কমে যায়।

ডার্ক চকোলেট

পিরিয়ড চলাকালীন চকলেট খেতে মানা করেন চিকিৎসকরা। এর পরিবর্তে খেতে পারেন ডার্ক চকলেট। এটি পিরিয়ডকালীন অবসাদ কাটাতে সাহায্যকারী ভূমিকা রাখে।

আদা চা

পিরিয়ডের ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে ভরসা রাখুন আদায়। এসময় আদা চা পান করলে ব্যথা অনেকটাই প্রশমিত হয়। এখানেই শেষ নয়। পিরিয়ডের সময় অনেকের মাথা ধরা, গা গোলানো সমস্যা দেখা দেয়। এগুলো নির্মূলেও সাহায্য করে আদা।

হলুদ পানি

নানা উপকারিতায় পরিপূর্ণ একটি মসলা হলুদ। বলা হয়, এক গ্লাস দুধের সঙ্গে এক চিমটি হলুদ মিশিয়ে খেলে যেকোনো ব্যথাই কমে। তবে, পিরিয়ডের সময় দুগ্ধজাত খাবার কম খেতে বলা হয়। সেক্ষেত্রে হালকা গরম পানিতে হলুদ গুলে খেতে পারেন।

হলুদ জরায়ুতে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে তোলে। এটি ইস্ট্রোজেনের প্রাকৃতিক উৎস। আর এই হরমোনটিই পিরিয়ডকে নিয়ন্ত্রণ করে।

পিরিয়ডের ব্যথা কমাতে ওষুধ নয়, ভরসা রাখুন ঘরোয়া উপাদানে। তাতে শরীরের ক্ষতি ছাড়াই উপকার মিলবে।