ফিলিস্তিন ভিত্তিক দুই হ্যাকার গ্রুপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। ফেসবুক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সময় প্ল্যাটফর্মটির নীতিমালা ভঙ্গ করে অন্য ব্যবহারকারীর আইডি এবং আইডি সম্পর্কিত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল ওই দুই হ্যাকার গ্রুপ।

এ প্রেক্ষিতে গ্রুপ দুটির সংশ্লিষ্ট সব লিংক ফেসবুক থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে জানায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি।

সম্প্রতি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায় ফেসবুক। ফেসবুকের সাইবার গুপ্তচরবৃত্তি বিষয়ক তদন্ত বিভাগের প্রধান মাইক ভিলায়েন্সকি এবং ঝুঁকি বিশ্লেষণ বিভাগের পরিচালক ডেভিড আগ্রানোভিচ এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন।

এতে বলা হয়, দুটি হ্যাকার গ্রুপের মধ্যে একটিতে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের নিজস্ব গোয়েন্দা সংস্থা প্রিভেন্টিভ সিকিউরিটি সার্ভিস (পিএসএস) জড়িত। অন্যটি অ্যারিড ভাইপার নামে একটি স্বতন্ত্র গ্রুপ। পিএসএস এর পৃষ্ঠপোষকতায় প্রথমবারের মতো এমন হ্যাকিং কর্মকাণ্ডের সন্ধান পেলো ফেসবুক।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, পিএসএস হ্যাকার গোষ্ঠী ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর থেকে তাদের হ্যাকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল ফিলিস্তিন, সিরিয়া, ইরাক, তুরস্ক, লিবিয়া ও লেবাননের কিছু অঞ্চল। এসব অঞ্চলের ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ওপর সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পদ্ধতি ব্যবহার করে তাদের একটি ফিশিং লিংকে ক্লিক করাতে কাজ করছিল হ্যাকার গোষ্ঠী। যারা এমন লিংকে ক্লিক করেছেন তাদের ডিভাইসে হ্যাকারদের একটি ম্যালওয়্যার ইন্সটল হয়ে যেতো।

ফেসবুক জানায়, যেসব মানুষের ফেসবুক আইডি লক্ষ্য করে এই ফিশিং করা হয় তাদের মধ্যে আছেন সাংবাদিক, ফাতাহ নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরোধীরা ও সমালোচক, মানবাধিকার কর্মী। এমনকি সিরিয়া, ইরাক ও তুরস্কের বিভিন্ন পর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তারাও এই ফিশিং লিংকের টার্গেট ছিলেন।

অন্যদিকে ফিশিং স্ক্যাম পদ্ধতি ব্যবহার করে অ্যারিড ভাইপার। তবে তাদের টার্গেট করা আইডিগুলো মূলত ফিলিস্তিনের মধ্যেই ছিল। বিশেষ করে সরকারি কর্মকর্তা, ফাতাহ দলের সদস্য, শিক্ষার্থীদের গ্রুপ এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের টার্গেটে ছিল।

ফেসবুক জানিয়েছে, এই দুই গ্রুপের সঙ্গে সম্পর্কিত সব আইডি, পেইজ ও গ্রুপ  বন্ধ করে দিয়েছে তারা। একই সঙ্গে যেসব ব্যবহারকারীর সঙ্গে এই দুই গ্রুপের পক্ষ থেকে কোনো বার্তা বা লিংক আদান-প্রদান করা হয়েছে তাদের সতর্ক করে দিয়েছে ফেসবুক।