ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভারত নিয়ন্ত্রিত জুম্মু কাশ্মীর। উপত্যকাটিতে পুলিশ ও স্থানীয়দের মধ্যকার সংঘর্ষে ৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন দুইজন পুলিশ ও দুইজন সাধারণ মানুষ। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও তিনজন পুলিশ সদস্য। শনিবার বরামুলার সোপোর এলাকায় নিয়মিত টহল দিচ্ছিল পুলিশ ও সিআরপি-র একটি যৌথ বাহিনী। এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে একদল। পরে পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে হতাহতের ঘটনাটি ঘটে।

কাশ্মীর পুলিশের মহাপরিচালক দিলবাগ সিংহ বলেন, নিহত দুই পুলিশ সদস্যের নাম ওয়াসিম আহমেদ ও সওকত আহমেদ। তারা দুজনই পুলিশের কনস্টেবল ছিলেন। এ হামলায় লস্কর-ই-তৈয়বার হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করছেন দিলবাগ। একই সঙ্গে তিনি বলেন, হামলার স্থান সোপোরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে বাড়তি পুলিশ।

এদিকে নিহতদের সমাধিস্থলে ভারতবিরোধী বিক্ষোভ করেছে স্থানীয়রা। তাদের দাবি হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর পুলিশ গুলি করে একজন সাধারণ মানুষকে হত্যা করে। এ ঘটানায় নিন্দা জানিয়েছেন কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। সমবেদনা জানিয়েছেন আহত ও নিহতদের পরিবারের প্রতি।

দ্বন্দ্বপূর্ণ অঞ্চলটিতে এখন পর্যন্ত ১ লাখেরও বেশি কাশ্মীরি নিহত হয়েছেন। ২০১৯ সালের আগস্টে ভারত জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে। ফলে কাশ্মীর এতদিন যে বিশেষ অধিকার পেত তা এর মাধ্যমে খারিজ হয়ে যায়। একই সঙ্গে জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যটিকে ভেঙে দুইটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করা হয়। এর একটি হলো লাদাখ এবং অপরটি জম্মু-কাশ্মীর। অঞ্চলটির সার্বিক উন্নয়নের জন্যই ভারত এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানায় নরেন্দ্র মোদির বিজেপি সরকার।