এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে দামি গাড়ির মূল্য ১৪২ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ বাংলাদেশি টাকায় ১৪ কোটি ২০ লাখ টাকা। গত ৫ মে ২০২২, ১৯৫৫ সালের একটি মার্সিডিজ-বেঞ্জ ৩০০ এসএলআর উহলেনহাউট কুপ নিলামে তোলে জার্মানির স্টুটগার্ট সংস্থা। নিলামে এর দাম ওঠে প্রথম ১১৫, ১৩৫ মিলিয়ন। সবশেষ বিক্রি হয় ১৪২ মিলিয়নে।

এটি ২০১৮ সালে রেকর্ড গড়া ১৯৬৩ সালের ফেরারি ২৫০ জিটিও গাড়ির রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। এই গাড়িটি বিক্রি হয়েছিল ৭০ মিলিয়ন ডলারে। ফেরারি ২৫০-এর চেয়ে দ্বিগুণ মূল্যে বিক্রি হলো মার্সিডিজ-বেঞ্জ ৩০০ এসএলআর উহলেনহাউট কুপ। সম্প্রতি গিনেস ওয়ার্ল্ড কর্তৃপক্ষ বিশ্বের সবচেয়ে দামি গাড়ির স্বীকৃতি দিয়েছে এটিকে।

গাড়িটি কিনেছেন ব্রিটিশ গাড়ি সংগ্রাহক ও পরিবেশক সাইমন কিডস্টন। তবে তিনি তার ক্লায়েন্টের পক্ষে এই গাড়িটি কিনেছেন। গত দেড় বছর ধরে মার্সিডিজ-বেঞ্জ কোম্পানিকে এই গাড়িটি বিক্রির জন্য লবিং করেছেন কিডস্টন। সুইজারল্যান্ডের ইতালিয়ান বংশোদ্ভূত ধনকুবের আর্নেস্টো বার্তারেলি এই গাড়িটির মালিক বলেই শোনা যায়। যদিও তিনি এ ব্যাপারে কিছুই জানাননি।

বিলাসবহুল গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি নির্মান করছে ১৮৮৬ সাল থেকে। বিশ্বের সবচেয়ে দামি ১১ গাড়ির মধ্যে তিনটিই এই প্রতিষ্ঠানের। এর মধ্যে অন্যতম ও সবচেয়ে দামি গাড়ি হচ্ছে ৩০০ এসএলআর উহলেনহাউট কুপ। মার্সিডিজ ১৯৫৫ সালে ৩০০ এসএলআর উহলেনহাউট কুপ মডেলের মাত্র দুইটি গাড়ি তৈরি করে মার্সিডিজ-বেঞ্জ। এর প্রধান প্রকৌশলী ও ডিজাইনার রুডলফ উহলেনহাটের নামেই এর নামকরণ করা হয়।

এটি ছিল একটি রেসিং কার। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে, মার্সিডিজ-বেঞ্জের রেস কারগুলো নাৎসিদের দ্বারা ব্যাঙ্করোল করা হত। তবে যুদ্ধের পর এগুলো চলে যায় বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত রেসারদের কাছে। এই গাড়িটি একাধিক গ্র্যান্ড প্রিক্স জিতেছে।

শুরু থেকেই গাড়িটি বেশ জনপ্রিয় ছিল। একাধিক রেস জেতা থেকে শুরু করে রেসিং কারটির গলউইং ডোর নজর কেড়েছিল বিশ্ববাসীর। এছাড়াও ১৮০বিএইচপির একটি স্ট্রেট-৬ ইঞ্জিন ছিল এতে। যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ২৪০বিএইচপি পর্যন্ত বেড়েছে।

যদিও এই গাড়ির আছে খারাপ ইতিহাস। যে বছর বাজারে আসে সে বছরই পিয়েরে লেভেগ গাড়িটি নিয়ে ২৪ ঘণ্টার লা মেনস রেসে অংশ নেন। তবে অতিরিক্ত গতি সহ্য করতে পারেনি গাড়িটির ইঞ্জিন। গাড়ির ভেতর আগুন লেগে যায়। এতে চালক পিয়েরে লেভেগসহ ৮৪ জন দর্শক প্রাণ হারায়। ১৮০ জন মানুষ আহত হন।

তবে এর পরের বছর অর্থাৎ ১৯৫৬ সালে ফ্যাঙ্গিও এই গাড়িটি নিয়ে জিতেছিলেন সবচেয়ে বয়স্ক ফর্মুলা ওয়ান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ। ফ্যাঙ্গিও ১৯৯৫ সালে ৮৪ বছর বয়সে মারা যান। সর্বাধিক ফর্মুলা ওয়ান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য ফ্যাঙ্গিওর রেকর্ডটি ২০০৩ পর্যন্ত অটুট ছিল। এরপর মাইকেল শুমাখার নামের এক জার্মানির বাসিন্দা এই চ্যাম্পিয়নশিপ জেতেন।

তবে খারাপ ভালো সব স্মৃতি নিয়ে এখনো বিশ্ববাসীর নজর কাড়ছে ৩০০ এসএলআর উহলেনহাউট কুপ। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি দামে নিলামে বিক্রি হওয়া গাড়ি এটি। গাড়ি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই গাড়ির মালিক নিশ্চতভাবেই ভবিষ্যতে এটিকে আরও চড়া মূল্যে বিক্রি করতে পারবেন। তবে এটি চালানোর আগে অবশ্যই এর সুরক্ষার জন্য অন্তত ১০০ কোটি ডলারের বীমা করা উচিত।