করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন প্রয়োগ কর্মসূচির তৃতীয় ধাপ শুরু করেছে ভারত। এই ধাপে ৪৫ বছর বা তার বেশি বয়সীরাও ভ্যাকসিন নিতে পারবেন। খবর বিবিসির।

ভারতে এখন পর্যন্ত ৬ কোটি মানুষকে করোনা ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন সামনের সারির কর্মী ও ৬০ বছরের বেশি বয়সী।

আগামী জুলাইয়ের মধ্যে ২৫ কোটি লোককে ভ্যাকসিন দেয়ার পরিকল্পনা করেছে ভারত। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই লক্ষ্য পূরণ করতে ভ্যাকসিন দেয়ার গতি আরও বাড়াতে হবে।

সম্প্রতি ভারতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আবার বেড়ে গেছে। এ বছরের শুরুর দিকে ভারতে যখন ভ্যাকসিন প্রয়োগ কর্মসূচি শুরু হয়, তখন করোনার প্রাদুর্ভাব বেশ কমে এসেছিল। দৈনিক সংক্রমণ নেমে এসেছিল ১৫ হাজারে। কিন্তু মার্চ থেকে সংক্রমণ আবার বাড়তে শুরু করে।

বুধবার ভারতে নতুন করে ৭২ হাজার ১৯ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ৪৫৭ জন। মহামারি শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত দেশটিতে ১ কোটি ১৭ লাখ লোক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজারেরও বেশি। আক্রান্তের সংখ্যায় বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে থাকা ভারত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের পরেই।

১৬ জানুয়ারি থেকে ভারতে যখন ভ্যাকসিন প্রয়োগ কর্মসূচি শুরু হয় তখন ভ্যাকসিন নেয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছে শুধু স্বাস্থ্যকর্মী ও সামনের সারির কর্মীদের। মার্চের ১ তারিখ থেকে ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের জন্যও ভ্যাকসিন উন্মুক্ত করা হয়। এছাড়া ৪৫ থেকে ৫৯ বছর বয়সীদের মধ্যে যারা অসুস্থ তাদেরও ভ্যাকসিনের আওতায় যুক্ত করা হয়। তবে বৃহস্পতিবার থেকে ভারতে ৪৫ বা তার বেশি বয়সের যে কেউ করোনা ভ্যাকসিন নিতে পারবেন।

ভারতে করোনাভাইরাসের দুটি ভ্যাকসিন দেয়া হচ্ছে। একটি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি ও সিরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত কোভিশিল্ড, আরেকটি ভারত বায়োটেকের তৈরি কোভ্যাক্সিন। এছাড়া আরও কয়েকটি ভ্যাকসিন তাদের ট্রায়ালের বিভিন্ন ধাপে রয়েছে।