শেষ ম্যাচে বোলোনিয়ার বিপক্ষে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে মাঠেই নামাননি কোচ আন্দ্রে পিরলো। এমনকি পরিবর্তিত খেলোয়াড় হিসেবেও না। অর্থ্যাৎ পুরো ম্যাচেই সাইডবেঞ্চে বসেছিলেন তিনি। তবুও, এবারের সিরি-আ’র মৌসুম শেষে ইতিহাসের বিরল এক রেকর্ড গড়ে ফেললেন পর্তুগিজ সুপার স্টার।

শেষ ম্যাচে মাঠে নামতে পারলে এবং গোল করতে পারলে হয়তো সংখ্যাটা আরও বাড়িয়ে নিতে পারতেন। তবে তাতেও তার রেকর্ড গড়তে কোনো সমস্যা হয়নি। এবারের ইতালিয়ান সিরি-আ’য় সর্বোচ্চ ২৯টি গোল করেছেন তিনি। ২৩ গোল নিয়ে তার পরের অবস্থানে রয়েছেন চ্যাম্পিয়ন ইন্টার মিলানের রোমেলু লুকাকু।

সে সঙ্গে ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, স্প্যানিশ লা লিগা এবং ইতালিয়ান সিরি-আ, ইউরোপের সেরা এই তিন লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার গৌরব অর্জন করলেন।

শেষ ম্যাচে বোলোনিয়াকে ৪-১ গোলে হারিয়ে চার নম্বরে থেকে লিগ শেষ করেছে জুভেন্টাস। চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইন্টারমিলান। রোনালদো না থাকলেও জুভদের হয়ে গোল পেতে সমস্যা হয়নি। মূলতঃ ইতালিয়ান ফুটবল সাংবাদিকরা মনে করছেন রোনালদোকে বসিয়ে রাখা ছিল একটা কৌশল।

এ নিয়ে তৃতীয় মৌসুম ইতালিয়ান সিরি-আ তে খেললেন রোনালদো। এবারই প্রথম তিনি ক্যাপোক্যানোনিয়েরে ট্রফির মালিক হলেন সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে। এর আগে ২০১৮-১৯ মৌসুমে রোনালদো গোল করেছিলেন ২১টি। সর্বোচ্চ গোলদাতা ফ্যাবিও কুয়াগলিরিয়েলার চেয়ে ৫টি কম ছিল তার।

পরের মৌসুমে ৩১টি গোল করেছিলেন তিনি। তবে সিরো ইমোবিলে সমান সংখ্যক গোল করে পেছনে ফেলেন রোনালদোকে এবং ইউরোপিয়ান গোল্ডেন সু জয় করেন তিনি। এবার আর রোনালদোকে পেছনে ফেলতে পারলেন না কেউ।

ইতালিয়ান সিরি-আতে তিন মৌসুমে ৯৭ ম্যাচ খেলে রোনালদো গোল করেছেন ৮১টি। জুভেন্টাসের হয়ে সব মিলিয়ে ১০২ ম্যাচ খেলে করেছেন ১০১ গোল। ২০১৯ এবং ২০২০ সালে পরপর দু’বার ইতালিয়ান সিরি-আ ফুটবলার অব দ্য ইয়ারের পুরস্কার জয় করেন।

২০০৭-০৮ মৌসুমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন রোনালদো। ম্যানইউর হয়ে সেবার তিনি করেছিলেন ৩১টি গোল। যেটার কারণে বছর শেষে প্রথমবারের মত ব্যালন ডি’অর পুরস্কার জিতেছিলেন তিনি। সব মিলিয়ে সেই মৌসুমে ৪২ গোল করেন তিনি এবং প্রথমবারেরমত জেতেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা।

২০০৯ সালে রিয়াল মাদ্রিদের যাওয়ার আগে ম্যানইউর হয়ে মোট ২৯২টি ম্যাচ খেলে রোনালদো গোল করেছিলেন ১১৮টি। ইংল্যান্ডে থাকাকালীন দু’বার প্লেয়ার অব দ্য ইয়ারের পুরস্কার জেতেন এবং দু’বার জেতেন ফুটবল রাইটার্স অ্যাওয়ার্ড।

রিয়াল মাদ্রিদে আসার পর তিনবার রোনালদো সর্বোচ্চ স্কোরার হিসেবে পিচিচি ট্রফি জয় করেন। ২০১০-১১ মৌসুমে প্রথমবার সর্বোচ্চ ৪০ গোল করেছিলেন তিনি। যদিও তার দল রিয়াল মাদ্রিদকে রানারআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল। তবে কোপা ডেল রে জিতেছিলেন তিনি। যা ছিল স্পেনে তার প্রথম ট্রফি।

২০১৩-১৪ মৌসুমে আবারও সর্বোচ্চ গোলদাতা হন রোনালদো। সেবার গোল করেছিলেন ৩১টি। সেবার তিনি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং ব্যালন ডি’অর শিরোপা একসঙ্গে জেতেন। যা তার ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বার। লা লিগার বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও জেতেন তিনি।

পরের মৌসুমেই রোনালদো ৪৮ গোল করে পিচিচি ট্রফি জয় করেন। কিন্তু সেবার মেসির কাছে সব হারিয়ে বসেন তিনি। কারণ মেসির বদৌলতে বার্সা লা লিগা, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং কোপা ডেল রে অর্থ্যাৎ ট্রেবল জয় করে বার্সেলোনা। যে কারণে ব্যালন ডি’অর জয় করেন মেসি।

২০১৮ সালে জুভেন্টাসের উদ্দেশ্যে রিয়াল মাদ্রিদ ত্যাগ করেন রোনালদো। যাওয়ার আগে রিয়ালের হয়ে ৪৫০টি গোল করেন তিনি। ম্যাচ খেলেছিলেন ৪৩৮টি। লা লিগায় মাত্র ২৯২ ম্যাচে ৩১১টি গোল করেন রোনালদো। শুধু তাই নয়, মাদ্রিদের হয়ে চারটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জয় করেন রোনালদো।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়েছেন রোনালদো। এই টুর্নামেন্টে তিনি করেছেন সর্বাধিক ১৩৪টি গোল। মোট সাতটি মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন তিনি। যা অন্য যে কোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে বেশি। চারবার ইউরোপিয়ান গোল্ডেন সু জয় করেন রোনালদো। তার চেয়ে দু’বার বেশি (৬বার) জিতেছেন কেবল লিওনেল মেসি।