বিট কয়েন, ক্রিপ্টো কারেন্সির মতো ভার্চ্যুয়াল মুদ্রার বাণিজ্যে অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে বিদেশে পাচায় হয়ে যাচ্ছে বিপুল পরিমান অর্থ। এমন একটি চক্রের মাধ্যমেই প্রতিমাসে প্রায় দেড় কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য পেয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

এছাড়া, এসব ভার্চ্যুয়াল মুদ্রায় অনলাইনের ডার্ক পর্নোসাইট থেকে পর্নোগ্রাফি কিনে, অর্থের বিনিময়ে ছড়িয়ে দিত। চক্রটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভার্চ্যুয়াল মুদ্রার ব্যবসার বিজ্ঞাপন দিয়েও আগ্রহীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে অর্থ।

রোববার (২০ জুন) ভোরে রাজধানীর দারুস সালাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভার্চ্যুয়াল মুদ্রা কেনাবেচা চক্রের মূলহোতাসহ চারজনকে আটক করে র‌্যাব-৪।

আটকরা হলেন- হামিম প্রিন্স খাঁন (৩২), রাহুল সরকার (২১), সঞ্জিব দে ওরফে তিতাস (২৮) ও সোহেল খান (২০)।

রোববার (২০ জুন) দুপুরে কারওয়ানবাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

আটকদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে তিনি বলেন, তারা ভার্চ্যুয়ালি বিভিন্ন সাইট থেকে একাউন্ট করে ভার্চ্যুয়াল মুদ্রা, ক্রিপ্টো কারেন্সি এবং বিট কয়েন কেনা-বেচার সঙ্গে জড়িত। তারা মোবাইল ব্যাংকিং বা ইলেক্ট্রনিক মানি ট্রান্সফারের মাধ্যমে বেশকিছু চক্রের সঙ্গে অর্থ লেনদেন করেন।

আটকরা অবৈধ ডার্ক পর্নোসাইট থেকে পর্নোগ্রাফি ক্রয় করে অর্থের বিনিময়ে ছড়িয়ে দিত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে ভার্চ্যুয়াল মুদ্রা লাভজনক বলে প্রচারণা চালায়। এর মাধ্যমে তরুণদের অবৈধ লেনদেনে প্রলুব্ধ করে আসছিলেন। বেশ কিছু আগ্রহীদেরকে কাছ থেকে নেওয়া কোটি-কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন।

এছাড়া, আগ্রহীদের তারা ক্রিপ্টো কারেন্সির প্রশিক্ষণের নামে অর্থ হাতিয়ে নেন। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি গ্রুপের সঙ্গে জড়িত। গ্রুপে কয়েক হাজার সদস্য রয়েছে। ওই একটি গ্রুপেই প্রতি মাসে প্রায় দেড় কোটি টাকা লেনদেন হয় বলে জানা যায়।

এ চক্রের  মূলহোতা হামিম প্রিন্স খাঁন আর বাকিরা সহযোগী উল্লেখ করে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ২০১৩ সালে বিএ পাশ করা হামিম ইউটিউবে ভিডিও দেখে কম্পিউটারের ওপর পারদর্শীতা লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি ক্রিপ্টো কারেন্সির ওপর দক্ষতা লাভ করে প্রায় ৫০ জনের বেশি মানুষকে বিট কয়েন লেনদেনের প্রশিক্ষণ দেন। হামিম বিট কয়েন ছাড়াও লিটকয়েন, ডগকয়েন, ইথারিয়াম, ব্রাস্ট, ন্যনো ইত্যাদি লেনদেনের সঙ্গে জড়িত। যুক্তরাষ্ট, যুক্তরাজ্য এবং কানাডাসহ উন্নত বিশ্বের অন্যান্য দেশে এ কার্যক্রম চালিয়ে তিনি বিপুল পরিমান অর্থ পাচার করে আসছিলেন।

হামিমের বিরুদ্ধে ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ ব্যবহার করে অন্যের ক্রেডিট কার্ড হ্যাক করে বিট কয়েন কিনে এই অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। ভার্চ্যুয়াল জগতে তার ১৫-১৬টি ওয়ালেট রয়েছে।