রোজা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। রোজা পালন কবুল হলে রোজাদার অনেক সওয়াবের অধিকারী হন। তবে রোজা কবুল হওয়ার জন্য কিছু শর্ত রয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমাদের যা নিষেধ করা হয়েছে তার মধ্যে যা গুরুতর তা থেকে বিরত থাকলে তোমাদের লঘুতর পাপগুলো ক্ষমা করে দেব। এবং তোমাদের সম্মানজনক স্থানে প্রবেশ করাব।’ (সুরা নিসা : আয়াত ৩১)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের নিয়তে রমজান মাসের রোজা রাখবে তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের নিয়তে রমজান মাসের রাতে ইবাদত করবে তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের নিয়তে কদরের রাত ইবাদত করে কাটাবে তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। (বুখারি ও মুসলিম)

উপর্যুক্ত আয়াত ও হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হলো, আল্লাহর পক্ষ থেকে যে ক্ষমার ওয়াদা করা হয়েছে তা কয়েকটি শর্তসাপেক্ষে।

১. রমজানের রোজা পালন করতে হবে ঈমানের সঙ্গে। অর্থাৎ আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ঈমান এবং রোজা যে একটি ফরজ ইবাদত এর প্রতি বিশ্বাস রাখা। রোজা পালনকারীকে আল্লাহ যেসব পুরস্কার দেবেন এর প্রতি বিশ্বাস রাখা।
২. রোজা পালন করতে হবে সওয়াবের নিয়তে। অর্থাৎ আল্লাহর রেজামন্দির জন্য রোজা পালন করা এবং রোজাকে বোঝা মনে না করা।
৩. কবিরা গুনাহ থেকে দূরে থাকতে হবে। যেমন, শিরক করা, সুদ খাওয়া, এতিমের সম্পদ আত্মসাৎ করা, ব্যাভিচার করা, অন্যায় হত্যা করা, মাতা-পিতার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা, আত্মীয়তার সম্পর্কচ্ছেদ করা, মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া ইত্যাদি।

রোজার ফজিলত ও সওয়াব অর্জনের জন্য শর্ত হলো:

১. রোজা একমাত্র আল্লাহর জন্য পালন করতে হবে। লোক দেখানো বা মানুষের প্রশংসা পাওয়ার জন্য রোজা পালন করা যাবে না।
২. রোজা পালনের ক্ষেত্রে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাত অনুসরণ করতে হবে। সেহরি, ইফতার, তারাবিসহ যাবতীয় বিষয় রাসুলের সুন্নত অনুযায়ী আদায় করতে হবে।
৩. শুধু খাওয়া-দাওয়া ও যৌনাচার থেকে বিরত থাকলে যথেষ্ট হবে না। মিথ্যা, পরনিন্দা, অশ্লীলতা, ধোঁকাবাজি, ঝগড়া-বিবাদসহ সব ধরনের অবৈধ কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। রোজাদারের আপাদমস্তককে পাপের কাজ থেকে বিরত রাখতে হবে।

রোজ পালনের মহান উদ্দেশ্য হলো, রোজা পালনকারী সব ধরনের অন্যায় ও গর্হিত আচার-আচরণ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখবে। রোজা হলো সব ভালো বিষয় অর্জন ও অন্যায়-গর্হিত কাজ ও কথা বর্জন অনুশীলনের একটি বিদ্যালয়। তাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অনেক রোজাদার এমন রয়েছে, যাদের রোজার বিনিময়ে অনাহারে থাকা ছাড়া আর কিছুই লাভ হয় না। আবার অনেক রাত জাগরণকারী এমন রয়েছে, যাদের রাত জাগার কষ্ট ছাড়া আর কিছুই লাভ হয় না। (মুসনাদে আহমদ)

আমরা যদি কেবল আল্লাহকে খুশি করার জন্য রোজা পালন করতে পারি তাহলেই রোজার পুণ্য লাভের আশা করতে পারি। কারণ আল্লাহ বলেছেন, রোজা আমারই জন্য এবং আমিই এর প্রতিদান দেব। আর যদি মানুষকে দেখানোর জন্য রোজা রাখা হয়, তাহলে পুণ্য লাভের আশা তো করা যাবেই না, উল্টো পাপে পূর্ণ হবে জীবন। শুধু আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির জন্য রোজা পালনের তাওফিক দান করুন। একমাত্র মহান রাব্বুল আলামিনই তাওফিকদাতা।