২০১৩ সালে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনায় মতিঝিল থানার করা মামলায় হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক মামুনুল হককে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেছে পুলিশ।

মতিঝিল থানা পুলিশ ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) এ আবেদন করে। মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) এ রিমান্ড শুনানি হতে পারে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদপুর থানায় করা নাশকতার মামলায় মামুনুল হকের ১৯ এপ্রিল সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এই মামলায় তাকে বর্তমানে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ২৬ এপ্রিল সাতদিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হবে। ২৭ এপ্রিল রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হবে। এরপরই মতিঝিলের মামলায় গ্রেফতার দেখানোপূর্বক তার ১০ দিনের রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

সোমবার (১৯ এপ্রিল) বেলা ১১টা ৯ মিনিটের দিকে তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় ২০২০ সালের মোহাম্মদপুর থানার একটি ভাঙচুর ও নাশকতার মামলায় তাকে সাতদিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাজেদুল হক। শুনানি শেষে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম তার সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড আবেদনে এসআই সাজেদুল বলেন, ২০২০ সালের ৬ মার্চ আনুমানিক রাত সাড়ে ৮টার দিকে মোহাম্মদপুরের সাত মসজিদ এলাকায় সাত গম্বুজ মসজিদে আমল করাকালীন আসামি মামুনুল হক ও তার ভাই মোহতামিম মাহফুজুল হকের নির্দেশে জামিয়া রহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসার ছাত্র আসামি ওমর ও ওসমান এসে মামলার বাদী জিএম আলমগীর শাহীনসহ তার সঙ্গে থাকা অন্যদের ইবাদত করতে নিষেধ করেন। তাদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করেন এবং মসজিদ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন।

এরপর রাত ৮টা ৪০ মিনিটে আসামি ওমর, ওসমান, শহিদ, আনিস, জহির মসজিদের ভেতরে এসে বাদীর সঙ্গে থাকা অন্যদের বেআইনিভাবে এলোপাথাড়ি কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। বাদী তাদের রক্ষা করতে গেলে, আসামি জহির তাকে মারধর করেন। এরপর আসামি মামুনুল হক ও তার ভাই মোহতামিম মাহফুজুল হকের নির্দেশে মাদরাসার ৭০/৮০ জন ছাত্র বাদীকে মারধর করেন। এতে বাদী গুরুতর রক্তাক্ত ও জখম হন। এ সময় তার কাছ থেকে একটি স্যামসাং মোবাইল, সাত হাজার টাকা ও ২০০ ডলার নিয়ে যান আসামিরা।

প্রসঙ্গত, ১৮ এপ্রিল দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসা থেকে মামুনুল হককে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগ।