সেনাসমর্থিত ১/১১-এর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় যুক্তরাষ্ট্রে সংস্কারপন্থীরা অনেক বেড়ে গিয়েছিল। সে সময় এই সংস্কারপন্থীদের জন্য নেত্রীর মুক্তির সভা করতে পারিনি।

শুক্রবার (১১ জুন) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন একথা বলেন।

শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে নিজ বাসভবনে ড. মোমেন সেনাসমর্থিত ১/১১-এর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় যুক্তরাষ্ট্রে আওয়ামী লীগের ভূমিকা নিয়ে আলাপ করেন। তিনি সেই সময়ে নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন ওই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি থাকতেন বোস্টনে। মোমেন বলেন, শেখ হাসিনার মুক্তির জন্য আমরা শেখ হাসিনা মুক্তি আন্দোলন শুরু করেছিলাম। প্রতি সপ্তাহে মিটিংয়ের জন্য বোস্টন থেকে নিউইয়র্কে যেতাম। শুক্রবার ক্লাস শেষ করেই রওয়ানা দিতাম নিউইয়র্কে। রোববার সেখান থেকে ফিরতে ফিরতে রাত ৪টা সাড়ে ৪টা বেজে যেত। পরদিন সোমবার সকাল ৮টায় ক্লাসে যেতাম। ছেলেমেয়েরা গাড়িতেই ঘুমিয়ে পড়তো।

তিনি বলেন, ওই সময়ে শেখ হাসিনার মুক্তি আন্দোলন শুরু করেছিলাম। আমরা যখন মিটিং করতাম, সংস্কারপন্থীরাও একই সময়ে মিটিং আহ্বান করতো। যেন আমাদের মিটিং বাধাগ্রস্ত হয়।

ড. মোমেন বলেন, জেল থেকে চিকিৎসার জন্য ছাড়া পেয়ে শেখ হাসিনা বোস্টনে গিয়েছিলেন। আমরা তখন বলেছিলাম, আপনি বঙ্গবন্ধুর কন্যা। আপনি অবশ্যই দেশে ফিরবেন। তিনি সব বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে দেশে ফিরেছিলেন।

সেনাসমর্থিত ১/১১-এর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই গ্রেফতার হয়েছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় কারাগারের অভ্যন্তরে শেখ হাসিনা অসুস্থ হয়ে পড়েন।

তখন বিদেশে চিকিৎসার জন্য তাকে মুক্তি দেওয়ার দাবি ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে। আওয়ামী লীগসহ অন্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ক্রমাগত চাপ, আপসহীন মনোভাব ও অনড় দাবির মুখে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস শুক্রবার (১১ জুন)। দীর্ঘ ১১ মাস কারাভোগের পর ২০০৮ সালের ১১ জুন সংসদ ভবন চত্বরে স্থাপিত বিশেষ কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।