বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে দর প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যে দরপ্রস্তাব কিনেছে ডজনখানেক বহুজাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানি। এদের সঙ্গে এখন দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবে পেট্রোবাংলা। চলতি সপ্তাহে একাধিক কোম্পানির সঙ্গে তারা বৈঠক করবে। এর আগে গত মাসে আগ্রহী কোম্পানিগুলো নিয়ে আন্তর্জাতিক সেমিনার করে সংস্থাটি।
পেট্রোবাংলার একজন পরিচালক জানান, চলতি সপ্তাহে কোন কোন কোম্পানির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে– দু-একদিনের মধ্যে চূড়ান্ত হবে। প্রথম দ্বিপক্ষীয় বৈঠক মার্কিন কোম্পানি শেভরনের সঙ্গে হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ সরকার বলেছিলেন, বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো বেশ আগ্রহ দেখাচ্ছে। তাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
গত ৩ জুন টোকিওতে অনুষ্ঠিত জাপান এনার্জি সামিটে মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানি এক্সনমবিলের এশিয়া প্যাসিফিকের ভাইস প্রেসিডেন্ট (বিজনেস ডেভেলপমেন্ট) হ্যালি ফ্যাম বাংলাদেশের সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি জানান, তারা বঙ্গোপসাগরে কাজ করতে আগ্রহী। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে আগেই চিঠি দেওয়া হয়েছে। এখন আলোচনা চলছে। বঙ্গোপসাগরে ব্লক ইজারা নিতে এক্সনমবিল দরপত্র কিনেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রে ১৫টি এবং অগভীর সমুদ্রে ১১টি ব্লক আছে। অগভীর সমুদ্রের দুটি ব্লকে অনুসন্ধান চালাচ্ছে ভারতের কোম্পানি ওএনজিসি। বাকি ২৪টি ব্লকে দরপত্র ডাকা হয়েছে গত ১১ মার্চ। দরপত্র জমার জন্য ছয় মাস, অর্থাৎ ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।
এবার বিশ্বের শীর্ষ পর্যায়ের ৫৫টি কোম্পানিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে পেট্রোবাংলা। সাগর সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তির পর ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার সমুদ্র অঞ্চলের ওপর মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশের। ২০১০ সালে গভীর সমুদ্রে ডিএস-১০ ও ডিএস-১১ ব্লকে কাজ নেয় কনোকোফিলিপস। তারা ২ডি জরিপ শেষে গ্যাসের দাম বাড়ানোর দাবি করে। সেই দাবি পূরণ না হওয়ায় কাজ ছেড়ে চলে যায়। এ ছাড়া চুক্তির পর কাজ ছেড়ে চলে যায় অস্ট্রেলিয়ার সান্তোস ও দক্ষিণ কোরিয়ার পস্কো দাইয়ু। ২০১৬ সালে সর্বশেষ দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। সে সময় কোনো সাড়া মেলেনি।
পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে, বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে আগ্রহী করে তোলার জন্যই আকর্ষণীয় করা হয়েছে নতুন উৎপাদন অংশীদারিত্ব চুক্তি (পিএসসি)। আগের পিএসসিগুলোতে গ্যাসের দর স্থির করা দেওয়া হলেও এবার গ্যাসের দর নির্ধারিত করা হয়নি। ব্রেন্ট ক্রুডের আন্তর্জাতিক বাজারদরের সঙ্গে ওঠানামা করবে গ্যাসের দর। প্রতি হাজার ঘনফুট গ্যাসের দাম ধরা হয়েছে ব্রেন্ট ক্রুডের ১০ শতাংশ দরের সমান। অর্থাৎ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৮০ ডলার হলে গ্যাসের দাম হবে আট ডলার। দামের পাশাপাশি সরকারের শেয়ারের অনুপাতও কমানো হয়েছে।


