প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও অন্যান্য কমিশনার নিয়োগে সুপারিশের জন্য ১০ জনের জন্য আজ চূড়ান্ত করবে অনুসন্ধান (সার্চ) কমিটি।

মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে চার টায় সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে কমিটির সপ্তম বৈঠক তথা শেষ বৈঠকে এ নাম চূড়ান্ত করা হবে।

আর ২৪ ফেব্রুয়ারি এই ১০ নাম রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দিতে পারেন বলে জানা গেছে।  

আর আগে, ২০ ফেব্রুয়ারি কমিটির ৬ষ্ঠ বৈঠক শেষে সভাপতি বিচারপতি ওবায়দুল হাসান জানিয়েছেন, তারা চূড়ান্ত ১০ নাম প্রকাশ করবেন না।

তিনি আরও জানিয়েছিলেন, আমরা এই পর্যন্ত আমাদের মধ্যে ছয়টি বৈঠক করেছি, আরেকটি বৈঠক বাকি আছে।  ২২ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টায় আমরা আশা করছি, আমাদের সপ্তম বৈঠকের মধ্য দিয়ে আপাতত আমাদের কাজ শেষ করতে পারব। ওই দিন আমাদের সর্বশেষ মিটিং করে রাষ্ট্রপতির কাছে এ নামগুলো পাঠিয়ে দেবো।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান, মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মুসলিম চৌধুরী, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান সোহরাব হোসাইন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন ও কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক আনোয়ারা সৈয়দ হক।

নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে অনুসন্ধান কমিটি গঠনের পর নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোসহ নাগরিকদের কাছে পছন্দের ব্যক্তিদের নাম চাওয়া হয়েছিল। ২৪টি রাজনৈতিক দল ও ছয়টি সংগঠন নামের তালিকা জমা দিয়েছিল। ব্যক্তিগতভাবেও অনেকে নামের তালিকা দিয়েছিলেন। তবে, বিএনপিসহ নিবন্ধিত বেশ কয়েকটি দল নাম প্রস্তাব করেনি।

গত ৫ ফেব্রুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে দেওয়ার জন্য নাম সুপারিশ করতে অনুসন্ধান কমিটি গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন, ২০২২- এর ধারা ৩ মোতাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দেওয়ার জন্য আইনে বর্ণিত যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নাম সুপারিশ করার লক্ষ্যে অনুসন্ধান (সার্চ) কমিটি গঠন করা হলো।

অনুসন্ধান কমিটি ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন, ২০২২’ মোতাবেক দায়িত্ব ও কার্যাবলী সম্পন্ন করবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ অনুসন্ধান কমিটির কার্য সম্পাদনে প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা দেবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি প্রথম বৈঠকের পর নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ও বিশিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে নাম চেয়েছিল সার্চ কমিটি। এরপর বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল বাদে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কাছে তিন শতাধিক নাম জমা পড়ে। এর মধ্যে কমিটি কয়েক দফায় বিশিষ্টজনদের সঙ্গে বৈঠক করে মতামত নেন। পরে ওয়েবসাইটে ৩২২ জনের নাম প্রকাশ করা হয়।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মেয়াদ শেষ হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গত ১৭ জানুয়ারি মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন, ২০২২’ অনুমোদন দেওয়া হয়।

গত ২৭ জানুয়ারি বিলটি জাতীয় সংসদে পাসের পর ২৯ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি আইনটিতে সম্মতি দেন।

৩০ জানুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল, ২০২২ এর গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন, ২০২২ অনুযায়ী সার্চ কমিটি (অনুসন্ধান কমিটি) গঠন করে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

আইন অনুযায়ী, আপিল বিভাগের একজন বিচারকের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আইনে বর্ণিত যোগ্যতা-অযোগ্যতা বিবেচনা করে তারা ১০ জনের নাম প্রস্তাব করবেন।

১০ জনের মধ্য থেকেই পাঁচজনকে নিয়ে রাষ্ট্রপতি নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন।