জনস্বাস্থ্য সংরক্ষণ ও করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে জরুরি বিবেচনায় চীনের সিনোফার্মার তৈরি সার্স কোভিড টু ভ্যাকসিন সরাসরি কেনার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়ক সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

বুধবার (১৯ মে) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়ক সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সভায় কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভাশেষে অনুমোদিত ক্রয় প্রস্তাবগুলোর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. শাহিদা আক্তার।

বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী বলেন, আজ অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ১৫তম অনুষ্ঠিত হয়েছে। অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের জন্য দু’টি এবং জরুরি প্রয়োজনে টেবিলে একটি প্রস্তাবসহ মোট তিনটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হলে তিনটি প্রস্তাবেরই নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. শাহিদা আক্তার সাংবাদিকদের জানান, অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে টেবিলে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ চীন থেকে করোনা ভাইরাসের টিকা সংগ্রহের একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলে কমিটি তাতে অনুমোদন দিয়েছে। প্রস্তাবটি হচ্ছে জনস্বাস্থ্য সংরক্ষণ ও করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে জরুরি বিবেচনায় গণচীনের তৈরি সার্স কোভিড টু ভ্যাকসিন সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কেনার প্রস্তাব। প্রস্তাবটি নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এটা ভ্যাকসিন কেনার একটি প্রস্তাব। এটা সিনোফার্মের ভ্যাকসিন। এখানে কী পরিমাণ, কতোদিনের মধ্যে আনা হবে এসব কিছু বলা হয়নি। শুধু চীনের সিনোফার্ম থেকে সার্স কোভিড টু ভ্যাকসিন প্রয়োগের প্রস্তাব ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর স্বকৃীতি দিয়েছে। সে পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ চীন থেকে টিকা সংগ্রহ করার অনুমোদন দিয়েছে। কী পরিমাণ সংগ্রহ করা হবে এবং কত টাকা লাগবে সেটা জানা যাবে যখন এ সংক্রান্ত ক্রয় প্রস্তাব কমিটির সভায় উপস্থাপন হবে।

গত ১১ মে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, আমরা চীন থেকে ৪ থেকে ৫ কোটি ভ্যাকসিন সংগ্রহ করবো। ইত্যোমধ্যে আমরা তাদের কাছে চাহিদাপত্র পাঠিয়েছি।

এছাড়া গত ১২ মে চীন থেকে উপহার হিসেবে করোনা ভাইরাসের ৫ লাখ ডোজ সিনোফার্মার ভ্যাকসিন বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

অর্থনৈতিক বিষয়ক সংক্রান্ত অন্য প্রস্তাবগুলো হলো, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বিসিআইসি ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ইউরিয়া সারের যোগান অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির মাধ্যমে (১) মুনতাজাত-কাতার থেকে ৫ লাখ মে. টন, (২) সাবিক-সৌদি আরব থেকে ৫ লাখ মে. টন এবং (৩) ফার্টিগ্লোব-ইউএই থেকে ২ লাখ ৮০ হাজার মে. টনসহ সর্বমোট ১২ লাখ ৮০ হাজার মে. টন ইউরিয়া সার আমদানির চুক্তি স্বাক্ষরের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।