এ কোনরূপে রাহুল দ্রাবিড়। আগাগোড়া একজন শান্ত-শিষ্ট মানুষ। অথচ, হঠাৎ করেই কি না তিনি রেগে গেলেন। হাত-পা ছুঁড়তে শুরু করে দিলেন। ব্যাট হাতে নিয়ে শুরু করে দিলেন ভাঙচুর। রাহুল দ্রাবিড়কে তো এমন রূপে দেখে বিস্ময়ে হতবাক সবাই। হঠাৎ কী হলো তার?

মূলতঃ নয়া অবতারে ভক্ত-সমর্থকদের কাছে ধরা দিলেন রাহুল দ্রাবিড়। তবে রিয়াল লাইফে রেগেমেগে যে এই ধ্রুপদী ব্যাটসম্যান হাত-পা ছুঁড়তে শুরু করেছেন ঠিক তা নয়। ক্রেডিট কার্ড অ্যাপ ক্রেডের নয়া একটি কমার্শিয়ালে রাহুল দ্রাবিড়কে দেখা গেছে তার নম্র স্বভাবের বিরুদ্ধাচরণ করতে। মূলতঃ এতেই হতবাক ক্রিকেটপ্রেমীরা।

ক্রেডের নতুন এই বিজ্ঞাপন মুক্তি পেয়েছে শুক্রবারই। ইউটিউবে প্রথম পাঁচ ঘন্টায় ৫৫ হাজারেরও বেশি মানুষ সেটি দেখে ফেলেন। আর একদিনের ব্যবধানে দেখেছেন প্রায় ১২ লাখ মানুষ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নতুন বিজ্ঞাপনী মডেল হিসেবে ভাইরাল ‘দ্য ওয়াল’। বিজ্ঞাপনটিতে ট্র্যাফিক সিগন্যালে আটকে থেকে বারবারই ক্রেডিট কার্ডের দেনায় জর্জরিত দ্রাবিড়কে মেজাজ হারাতে দেখা গেছে। সিগন্যালে আটকে থাকা অবস্থায় চিৎকার করে রীতিমতো অন্যান্য পথচারীদের মাথাব্যথার কারণ হয়েছেন তিনি।

এখানেই শেষ নয়। ক্রিকেট ব্যাট বের করে সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকা পাশের গাড়িটির সাইড-ভিউ মিররও ভাঙতে দেখা গেছে দ্রাবিড়কে। হঠাৎই ব্যাট হাতে আবার চিৎকার করে তিনি বলছেন, ‘ইন্দিরাগড়ের গুন্ডা আমি।’

তবে পুরোটাই বিজ্ঞাপনী প্রচারের তাড়নায়। যদিও আপাত শান্ত স্বভাবের দ্রাবিড় যে অভিনয়ের কারণেও এমন মেজাজ হারাতে পারে, তা হয়তো তার অতিভক্তদেরও জানা ছিল না। সবমিলিয়ে ‘ইন্দিরাগড়ের গুন্ডা’ রূপে দ্রাবিড়কে দেখে হতবাক নেটিজেনরা।

বিজ্ঞাপনটি নিয়ে দ্রাবিড় লিখেছেন, ‘হাই, আমি রাহুল দ্রাবিড় ভিডিওটির বর্ণনা লিখছি। মেজাজ হারিয়ে ফেলার জন্য আমি দুঃখিত। আমি সেজন্য ইদানিং যোগা করছি। যাইহোক, আমি আপনাদের বলতে চাই যে সঠিক সময়ে আপনি যদি আপনার ক্রেডিট কার্ডের বিল মেটান তাহলে ক্রেড আপনাকে প্রত্যেক সময় পুরস্কৃত করবেই। ওরা খুব ভালো মানুষ।’

তবে কেবল ভক্তরাই নন, দ্রাবিড়ের অভিনয় মুগ্ধ করেছে বিরাট কোহলি, টি নটরাজনদেরও। বিজ্ঞাপনের কমেন্টসে তার সাবেক সতীর্থ কোহলি লিখেছেন, ‘রাহুল ভাইয়ের এই দিকটা কখনও দেখিনি।’

তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপনটিতে সবচেয়ে মজার কমেন্ট করেছে ফুড ডেলিভারি সংস্থা জোম্যাটো। তারা লিখেছে, ‘ইন্দিরানগরে আজ খাবার ডেলিভারি করতে দেরি হতে পারে। কারণ সেখানকার রাস্তায় একজন গুন্ডার দেখা মিলেছে।’