ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে পালিয়েছেন মিউকরমাইকোসিস বা ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত এক নারী। ঘটনাটি নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। তাকে খুঁজতে মাঠে নেমেছে ভারতীয় পুলিশ।

জানা গেছে, ৫৫ বছর বয়সী ওই নারী পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা। কয়েকদিন আগে একাধিক উপসর্গ নিয়ে তিনি উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তার শরীরে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সংক্রমণ ধরা পড়ে। বিষয়টি জানানো হয় তাকে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শরীরে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সংক্রমণের কথা শুনে বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন ওই নারী। কিছুক্ষণ পর নার্সরা খোঁজ নিতে গিয়ে দেখেন তিনি বেডে নেই। শুরু হয় খোঁজ নেয়া। গোটা হাসপাতালেই পাওয়া যায়নি তাকে। ওই নারীর ‘উধাও’ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ডিন সন্দীপ সেনগুপ্ত বলেন, ‘আমাদের মেডিকেল কলেজ থেকে মিউকরমাইকোসিস সংক্রমিত এক নারী উধাও হয়ে গেছেন। সে বিষয়ে ইতোমধ্যেই পুলিশকে জানানো হয়েছে। পুলিশ তার খোঁজ করছে।’

সাধারণত করোনা রোগীর শরীরেই থাবা বসাচ্ছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস। মাত্রাতিরিক্ত স্টেরয়েড ব্যবহারের ফলে এই ধরনের ছত্রাক শরীরে সক্রিয় হয়ে উঠছে বলেই জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্তদের চোখের সমস্যা, নাকের সমস্যার মতো একাধিক উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। সঠিক সময়ে এই ধরনের ছত্রাক সংক্রমণ ধরা না পড়লে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে। ঘটতে পারে প্রাণহানিও। ব্ল্যাকের পাশাপাশি হোয়াইট, ইয়েলো এবং গ্রিন ফাঙ্গাস সংক্রমণের খবরও মিলেছে।

এর আগে ভারতের একাধিক রাজ্যে করোনা রোগী উধাও হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়। ফলে সংক্রমণ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়। তবে পশ্চিমবঙ্গে এবারই প্রথম ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে সংক্রমিত রোগীর উধাও খবর পাওয়া গেল।