ইনিংসের প্রথম ওভারেই ফিরিয়ে দিলেন দুই ওপেনার রোহিত শর্মা ও ইশান কিশানকে। পরের ওভারে আউট করলেন ডেওয়াল্ড ব্রেভিসকেও। চেন্নাই সুপার কিংসের অখ্যাত পেসার মুকেশ চৌধুরীর এ শুরুর তোপে ব্যাকফুটে চলে যায় মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স।
তবে সেখান থেকে তাদের লড়াকু সংগ্রহ এনে দিয়েছে তরুণ তুর্কি তিলক ভার্মা, হৃত্বিক শোকেন, সূর্যকুমার যাদব, জয়দেব উনাদকাতরা। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৫৫ রান করেছে এখনও জয়ের দেখা না পাওয়া মুম্বাই।
মুম্বাইয়ের ডিওয়াই পাতিল স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই আউট হয়েছেন রোহিত। চেন্নাইয়ের অখ্যাত পেসার মুকেশের ফুল লেন্থের ইনসুইং ডেলিভারিতে মিড অনে ক্যাচ দিয়ে আউট হয়েছেন তিনি।
এ নিয়ে আইপিএল ক্যারিয়ারে ১৪তম বার শূন্য রানে আউট হলেন রোহিত। আইপিএলে তার চেয়ে বেশি শূন্য নেই আর কারও। সমান ১৩ বার করে হাঁস খাওয়ার নজির রয়েছে অজিঙ্কা রাহানে, পার্থিব প্যাটেল, আম্বাতি রাইডু, মানদ্বীপ সিং, হরভজন সিং ও পিয়ুশ চাওলার।
রোহিত আউট হওয়ার দুই বল পর দারুণ এক আউটসুইং করা ইয়র্কার ডেলিভারিতে আরেক ওপেনার ইশান কিশানকে ফিরিয়ে দেন মুকেশ। সেই ডেলিভারি খেলতে গিয়ে নিজের হাঁটুর ওপরই পড়ে যান মুম্বাইয়ের এ তরুণ।
অধিনায়কের মতো ইশানও রানের খাতা খুলতে পারেননি। আইপিএলে একই ম্যাচে মুম্বাইয়ের দুই ওপেনারের শূন্য রানে আউট হওয়ার দ্বিতীয় ঘটনা এটি। এর আগে ২০০৯ সালের আসরে ডেকান চার্জার্সের বিপক্ষে শূন্য রানে আউট হন লুক রঞ্চি ও জেপি ডুমিনি।
শুরুতেই দুই ওপেনারকে হারানোর পর পাওয়ার প্লে’তে সাজঘরের পথ ধরেন প্রোটিয়া তরুণ ডেওয়াল্ড ব্রেভিসও। মুকেশের তৃতীয় শিকারে পরিণত হওয়ার আগে মাত্র ৪ রান করেন ব্রেভিস। এ নিয়ে টানা তিন ম্যাচে পাওয়ার প্লে’তে ৩ উইকেট নিলো চেন্নাই।
টপঅর্ডারের তিন ব্যাটার মাত্র ৪ রান করে ফেরার পর বিপর্যয় সামাল দেওয়ার মিশনে নামেন আরেক তারকা ব্যাটার সূর্যকুমার যাদব ও তরুণ তিলক ভার্মা। কিন্তু বেশি দূর যেতে পারেননি। দলীয় ৫০ হওয়ার আগেই ২১ বলে ৩২ রান করে আউট হন সূর্য।
এরপর দুই তরুণ তিলক ভার্মা ও হৃত্বিক শোকেন মিলে ধীরেসুস্থে ইনিংস এগিয়ে নিতে থাকেন। এ জুটিতে আসে ৬ ওভারে ৩৮ রান। দলীয় ৮৫ রানের সময় ডোয়াইন ব্রাভোর বলে আউট হওয়ার আগে ২৫ বলে ২৫ রান করেন শোকেন।
বুধবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে আকস্মিক অবসর নেওয়া কাইরন পোলার্ডও বেশি কিছু করতে পারেননি। তিলকের সঙ্গে মিলে দলকে শতরান পার করিয়ে ৯ বলে ১৪ রান করে আউট হয়ে যান তিনি। ড্যানিয়েল স্যামস ফেরেন ৫ রান করে।
অপরপ্রান্তে যাওয়া-আসার মিছিলে আস্থার প্রতীক হয়ে খেলছিলেন তিলক। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে ব্যাটিংয়ে নেমে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকেছেন তিনি। শেষ দিকে জয়দেব উনাদকাতের সঙ্গে মাত্র ২.৪ ওভারে যোগ করেছেন ৩৫ রান।
চলতি আইপিএলে নিজের দ্বিতীয় ফিফটি করে তিন চার ও দুই ছয়ের মারে ৪৩ বলে ৫১ রান করেন তিলক। শেষের ঝড় তোলা উনাদকাত একটি করে চার-ছয়ের মারে খেলেন ৯ বলে ১৯ রানের অতি কার্যকরী ক্যামিও ইনিংস।
চেন্নাইয়ের পক্ষে বল হাতে মাত্র ১৯ রান খরচায় ৩ উইকেট নিয়েছেন মুকেশ। যা তার আইপিএল ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং। এছাড়া ব্রাভো নিয়েছেন ২টি উইকেট।


