এবার ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রের সংখ্যা (তিন) অতি অল্প হলেও সেগুলোকে ঘিরে আলোচনা সমালোচনার মাত্রা যেন আকাশ ছুঁয়েছে। সিনেমার প্রচারণায় নেমে নির্মাতা, প্রযোজক ও অভিনয়শিল্পীরা একে অপরকে করছেন নগ্ন আক্রমণ। এসবে এগিয়ে আছেন ‘দিন-দ্য ডে’র প্রযোজক ও অভিনেতা অনন্ত জলিল।
শুরু থেকেই অনন্ত নিজের সিনেমার পাশে কথার জোরে অন্য সিনেমা দুটিকে ভিড়তেই দিচ্ছেন না। মুক্তির পরও তা অব্যহত রেখেছেন। এই কাঁদা ছোড়াছুড়িতে বিরক্ত ঢাকাই সিনেমার বিজ্ঞ শিল্পীদের অনেকেই। এবার সেই দলে যোগ দিলেন প্রযোজক ও খল অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল। আকার ইঙ্গিতে তিনি বিরক্তি প্রকাশ করলেন অনন্ত জলিলের প্রতি।
শুরুতেই ডিপজল বলেন, ‘সবকিছুর একটা সীমা আছে। বাস্তবতা মানতে হবে। আমাদের সিনেমার পরিস্থিতি ভালো না। এরমধ্যে কিছু সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে। তবে যে সিনেমাটি নিয়ে বেশি সমালোচনা শুনছি, তা কাম্য নয়। এক্ষেত্রে ছবির যে বাজেটের কথা বলা হচ্ছে, তার বাস্তবতা নিয়ে অনেকের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আমার কথা হচ্ছে, সিনেমার প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে দর্শকের কাছে পৌঁছানোর দরকার আছে। এক্ষেত্রে, এমন কোনো প্রচার-প্রচারণা চালানো উচিত নয়, যা অতিরঞ্জিত এবং বিশ্বাসযোগ্যতা হারায়। প্রচার-প্রচারণার কারণে দর্শক হলে গিয়ে সিনেমাটি দেখে যদি তার সঙ্গে মিল না পায়, তাহলে তারা হতাশ হয়। এটা তাদের কাছে ধোঁকা হয়ে দাঁড়ায়।’
এরপর ডিপজল যোগ করেন, ‘এখন দর্শক অনেক কিছু জানেন। কোন সিনেমার বাজেট কত হতে পারে, তা তারা বুঝতে পারেন। কারণ, তারা হলিউড-বলিউডসহ বিশ্বের সব দেশের সিনেমা এখন দেখে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। তারা একটি সিনেমা দেখে বলে দিতে পারেন, সিনেমাটি কতটা ব্যয়বহুল।’
সবশেষে এই অভিনেতা আরও বলেন, ‘বাস্তবতা হচ্ছে, আমাদের দেশের সিনেমার বাজার ছোট হয়ে গেছে। বছরে গড়ে ৪০-৫০টি হলে সিনেমা চলে। ঈদের সময় কিছু কিছু সিনেমা হল খুলে আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়। কাজেই, সিনেমার বাজেট নিয়ে অবাস্তব প্রচার-প্রচারণা না করাই ভালো।’
অনন্তর ভাষ্যমতে তার ‘দিন-দ্য ডে’র বাজেট শতকোটি টাকা। ইরান ও বাংলাদেশের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হয়েছে এটি। এতে অনন্তর বিপরীতে রয়েছেন বর্ষা। সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন ইরানি পরিচালক মুর্তজা অতাশ জমজম।
এস আই


