অস্ত্রবিরতির ঘোষণার পরদিনই পাকিস্তান সীমান্তঘেঁষা চেনাব নদীর একাধিক বাঁধের গেট খুলে দিয়েছে ভারত। এর ফলে আবারও পাকিস্তানের দিকে প্রবল পানিপ্রবাহ শুরু হয়েছে, যা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ভারতের নিয়ন্ত্রণাধীন জম্মু-কাশ্মীরের বাগলিহার ও সালাল বাঁধে জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় শনিবার (১১ মে) এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে দেশটির প্রশাসনিক সূত্র। তবে সরকারিভাবে বাঁধের গেট খোলার কারণ প্রকাশ করা হয়নি।
পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসী হামলায় ২৫ ভারতীয় নাগরিক নিহত হওয়ার পর ভারতের নেওয়া কড়া পদক্ষেপগুলোর একটি ছিল পাকিস্তানের দিকে পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া। সেই সময় ভারতের পক্ষ থেকে সিন্ধু পানিচুক্তি সাময়িক স্থগিত করে এবং চেনাব নদীর ওপর নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ বাঁধগুলোর গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়, যার ফলে পাকিস্তানে নদীর জলপ্রবাহ প্রায় শূন্যে নেমে আসে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, সম্প্রতি জম্মু-কাশ্মীর অঞ্চলে টানা ভারী বর্ষণের ফলে বাগলিহার ও সালাল বাঁধে পানির পরিমাণ বিপজ্জনকভাবে বেড়ে গিয়েছিল। জলাধারে অতিরিক্ত পানি জমে থাকায় বাঁধের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে গেট খুলে দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো পানি না ছাড়লে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারত।
গেট খোলার পর পাকিস্তানে চেনাব নদীর নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে পাকিস্তানি প্রশাসন বন্যার সতর্কতা জারি করেছে এবং নদী তীরবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ভারত ও পাকিস্তান উভয়ই পানিসম্পদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যে রয়েছে। ১৯৬০ সালের সিন্ধু পানিচুক্তি অনুসারে উভয় দেশ নিজেদের মধ্যে নদীগুলোর পানি বণ্টন করে আসছে। তবে সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে পানিচুক্তি নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে।
এই সিদ্ধান্তকে কেউ কেউ ইতিবাচকভাবে দেখলেও, অনেকেই মনে করছেন—এটি একটি কৌশলগত চাপ প্রয়োগের অংশ, যার মাধ্যমে ভারত পাকিস্তানকে আরও বেশি কূটনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে চাইছে।


